নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত ধারণা হল—সয়াবিন বা সয়া-জাতীয় খাবার বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সয়াতে থাকা আইসোফ্লাভোন (isoflavones)-কে ‘ফাইটোইস্ট্রোজেন’ বলা হয়, কারণ এগুলোর রাসায়নিক গঠন ইস্ট্রোজেনের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। তবে এগুলি শরীরে মানুষের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো একইভাবে কাজ করে না।
২০২৫ সালে Advances in Nutrition-এ প্রকাশিত একটি systematic review ও meta-analysis-এ ৪০টি randomized controlled trial এবং মোট ৩,২৮৫ জন postmenopausal নারীকে নিয়ে গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে সয়া আইসোফ্লাভোন গ্রহণের সঙ্গে estradiol, FSH, জরায়ুর আস্তরণের পুরুত্বসহ বিভিন্ন estrogenicity-র মাপকাঠিতে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সয়া আইসোফ্লাভোনের কার্যপ্রক্রিয়া অনেকটাই selective estrogen receptor modulator (SERM)-এর মতো, সরাসরি হরমোন ইস্ট্রোজেনের মতো নয়।
আরও বিস্তৃত মানব-গবেষণার একটি technical review-তেও সয়া আইসোফ্লাভোনকে পুরুষ বা নারীর যৌন হরমোনের মাত্রায় ক্ষতিকর পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের একটি নতুন meta-analysis-এ postmenopausal নারীদের ক্ষেত্রে সয়া আইসোফ্লাভোনের কিছু urogenital ও sexual symptoms-এর সম্ভাব্য উপকারের কথা বলা হয়েছে। তবে গবেষণাগুলির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য ছিল এবং দীর্ঘমেয়াদি ফল নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সুতরাং, “সয়া খেলেই শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বেড়ে যায়”—এমন দাবি বর্তমান মানব-গবেষণার সঙ্গে মেলে না। বরং পরিমিত খাদ্য হিসেবে tofu, tempeh, edamame বা soy milk-এর মতো সয়া-জাতীয় খাবার সাধারণত নিরাপদ বলে বর্তমান প্রমাণে দেখা যাচ্ছে। তবে সয়া খাবার এবং উচ্চমাত্রার isoflavone supplement এক জিনিস নয়—সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে মাত্রা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
এক কথায়: সয়াতে ‘ইস্ট্রোজেন’ নেই; রয়েছে ফাইটোইস্ট্রোজেন বা আইসোফ্লাভোন, যা মানবদেহের ইস্ট্রোজেনের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করে। বর্তমান গবেষণা অনুযায়ী স্বাভাবিক খাদ্য হিসেবে সয়া গ্রহণকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানোর শক্ত প্রমাণ নেই।