নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সাধারণত খিরা চাষের জন্য উর্বর ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত দোআঁশ মাটিকে উপযোগী মনে করা হয়। কিন্তু জলধারণকারী কাদামাটির জমিতেও বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে খিরা চাষ করে সাফল্য পাওয়ার নজির রয়েছে।
বর্ষাকালে যেসব নিচু জমিতে জল ও কাদা জমে থাকে, সেসব জমিকে কাজে লাগিয়ে খিরা চাষের এই পদ্ধতি কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, কাদাপানি অবস্থায় জমিতে নির্দিষ্ট মাপের লাইন তৈরি করে ছাই ব্যবহার করে সেখানে খিরার বীজ রোপণ করা হয়েছে। পরে পাতা দিয়ে বীজ ঢেকে দেওয়া হয়।
এই পদ্ধতিতে জমির কাদাযুক্ত অংশে উঁচু বেড বা লাইন তৈরি করা হয়, যাতে গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত জল জমে না থাকে। খিরা গাছ জলাবদ্ধতার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় সঠিক নিকাশির ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত চাষ পদ্ধতিতেও বেডের মাঝে নালা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কাদামাটিতে চাষের ক্ষেত্রে বীজ রোপণের জায়গায় ছাই ব্যবহার করে চারা গজানোর ব্যবস্থা করা যায়। স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, এই পদ্ধতিতে বর্ষাকালের অনাবাদি বা কম-ব্যবহৃত জমিকেও সবজি উৎপাদনে কাজে লাগানো সম্ভব।
খিরা মাটিতে বা মাচা—দুই পদ্ধতিতেই চাষ করা যায়। তবে বর্ষাকালে মাচায় চাষ করলে গাছ ও ফল অতিরিক্ত জল ও মাটির সংস্পর্শ থেকে কিছুটা দূরে থাকে। প্রচলিত কৃষি পরামর্শেও বর্ষাকালে খিরার জন্য মাচা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
সঠিক পরিচর্যা, জাত নির্বাচন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে খিরা তুলনামূলক দ্রুত বাজারজাত করা যায়। একটি কৃষি প্রতিবেদনে বীজ বপনের প্রায় ৩০–৩৫ দিন পর থেকে খিরা বাজারজাত শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কাদামাটিতে চাষের ক্ষেত্রে জমির জলস্তর, মাটির ধরন ও স্থানীয় আবহাওয়ার উপর ফলন অনেকটাই নির্ভর করবে। তাই বড় পরিসরে চাষের আগে স্থানীয় কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কাদামাটির জমিকে কাজে লাগিয়ে খিরা চাষ শুধু অনাবাদি জমির ব্যবহার বাড়াতেই পারে না, সঠিক পদ্ধতি ও বাজারদর থাকলে কৃষকের বাড়তি আয়ের পথও তৈরি করতে পারে।