নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: করমপূজা উপলক্ষে গোসাবা বিধানসভার পাঠানখালী অঞ্চলের তেতুলতলী গ্রামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন জয়নগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি জেনারেল সেক্রেটারি সঞ্জয় সিনহা। অনুষ্ঠানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনের সঙ্গে নাচে অংশ নেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ভিডিওতে সঞ্জয় সিনহাকে আদিবাসী মা-বোনেদের সঙ্গে হাত ধরে নাচতে দেখা যাচ্ছে। উৎসবের আবহে তাঁর এই অংশগ্রহণকে ঘিরে সমর্থকদের একাংশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালেও, একইসঙ্গে এলাকায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিছু স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকার জল, রাস্তা, আলোসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনে তাঁকে সবসময় কাছে পাওয়া যায় না। তাঁদের বক্তব্য, উৎসব বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাদের উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সাধারণ মানুষের সমস্যার সময় তাঁদের পাশে থাকাটাও জরুরি।
সঞ্জয় সিনহার সমালোচকদের আরও প্রশ্ন, শুধুমাত্র উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রচার করলেই কি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব? তাঁদের মতে, আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকার অর্থ শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নয়; তাঁদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সমস্যার বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
এদিকে, সঞ্জয় সিনহাকে ঘিরে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জনসংযোগের ধরন অনুকরণ’ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, জয়নগর সাংগঠনিক জেলায় সাংগঠনিক পদ ঘিরে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হতে পারে—এমন রাজনৈতিক জল্পনাও রয়েছে। তবে সঞ্জয় সিনহা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পেছনে কোনও রাজনৈতিক পদ পাওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
করমপূজার মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে তেতুলতলীর এই অনুষ্ঠান ঘিরে মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—উৎসবের মঞ্চের উপস্থিতির পাশাপাশি সারা বছর সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান?
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, তাঁরা শুধু উৎসবের সময় পাশে থাকা কোনও নেতাকে নয়, প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাযোগ করা যায় এবং এলাকার সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করেন—এমন প্রতিনিধিত্ব চান।