নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার পার্ক সার্কাস ও এন্টালি বিধানসভার অন্তর্গত ৬৫ ও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ফের সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। স্থানীয় মহিলাদের কাছ থেকে জল জমা, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা এবং রাস্তার সমস্যার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে এলাকার জল নিকাশির সমস্যা, নোংরা-আবর্জনায় নালা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সরকারি ড্রেনের উপর বেআইনি নির্মাণ ও পার্কিংয়ের অভিযোগ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বৃষ্টির জল দ্রুত বের হতে না পারায় একাধিক জায়গায় জল জমে যায়। নালা ও নর্দমায় নিয়মিত পরিষ্কারের অভাব এবং নোংরা-আবর্জনা জমে থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পলের নজরে আসে, এলাকার শীতলা মন্দিরের সিঁড়ির একাংশ জল ও মাটির স্তরে ঢেকে রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এই সমস্যার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। মন্দিরে যাতায়াতকারী ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
সরকারি ড্রেন দখল ও বেআইনি পার্কিং নিয়ে কড়া অবস্থান
পরিদর্শনের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। কিছু জায়গায় সরকারি ড্রেনের উপর নির্মাণ এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকায় স্বাভাবিক নিকাশি ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকার সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি নালা, ড্রেন কিংবা রাস্তা দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবসা বা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে কড়া অবস্থান জানান নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিকাশি ব্যবস্থা এবং রাস্তা দখল করে কোনও ধরনের ব্যক্তিগত সুবিধা তৈরি করা বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক আলোচনা
পরিদর্শন চলাকালীনই সঙ্গে থাকা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন অগ্নিমিত্রা পল। যে সমস্ত জায়গায় সরকারি জমি, নালা বা নিকাশি ব্যবস্থার উপর বেআইনি দখলের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির নথিপত্র এবং বৈধতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিকাঠামো যাতে কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দাদের আশ্বাস, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নজরদারি
এলাকার স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা শোনেন মন্ত্রী। বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ দূর করাই অগ্রাধিকার। শুধু অভিযোগ শুনে এলাকা থেকে ফিরে যাওয়া নয়, সমস্যার বাস্তব সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টির উপর নজর রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নই মূল লক্ষ্য
শহরের প্রতিটি এলাকায় উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোনওরকম অবহেলা থাকলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর পড়ে। পার্ক সার্কাস ও এন্টালির ৬৫ ও ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যাগুলি পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলিই নতুন করে সামনে এসেছে।
নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের এই পরিদর্শনে একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি ড্রেন ও নিকাশি ব্যবস্থা দখলের অভিযোগের বিষয়েও প্রশাসনিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার এই নির্দেশ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং দীর্ঘদিনের জল জমা ও নিকাশি সমস্যার কতটা স্থায়ী সমাধান হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পার্ক সার্কাস ও এন্টালির স্থানীয় বাসিন্দারা।