Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
প্রতীকের লড়াই কি রাজনীতির মূল প্রশ্নকে আড়াল করছে?   •   এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের ব্রোঞ্জ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ফাতিমা সানার   •   জাপানের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারতের ২ রানের জয়   •   বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাব, দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু’দিন বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা   •   বিশ্ব গন্ডার দিবসে আলিপুরদুয়ারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে সচেতনতার বার্তা   •   শহর পরিচ্ছন্ন রাখার নেপথ্যে সাফাইকর্মীরা, নিরাপত্তায় জোর অগ্নিমিত্রার

প্রতীকের লড়াই কি রাজনীতির মূল প্রশ্নকে আড়াল করছে?

22 Sep 2026
01:04 PM

সম্পাদকের কলমে : রাজনীতিতে প্রতীক শুধু একটি ছবি বা চিহ্ন নয়। একটি নির্বাচনী প্রতীক বছরের পর বছর ধরে কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের সঙ্গে মানুষের মনে জড়িয়ে থাকতে পারে। ভোটের মাঠে প্রার্থীকে চেনানো থেকে শুরু করে দলের রাজনৈতিক ইতিহাস, কর্মীদের আবেগ এবং সাধারণ ভোটারের পরিচিতি—সবকিছুর সঙ্গেই প্রতীকের একটি সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই কোনও দলের প্রতীক নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে সেটি নিছক একটি চিহ্নের মালিকানা নিয়ে বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অস্তিত্বের প্রশ্নও।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় প্রতীক নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একটি দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি সামনে আসায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য বিকল্প প্রতীক বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কমিশনের মুক্ত প্রতীকের তালিকায় চুড়ি-সহ বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীও রয়েছে।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে—রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু কি প্রতীক হয়ে উঠবে, নাকি প্রতীকের আড়াল থেকে উঠে আসবে মানুষের আসল প্রশ্ন?

নির্বাচনের সময় প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব ভোটার প্রার্থী বা দলের বিস্তারিত ইতিহাস জানেন না। বিশেষ করে বহু প্রার্থী ও একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে প্রতীক ভোটারকে প্রার্থী শনাক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে পরিচিত প্রতীক পরিবর্তিত হলে কোনও দলের প্রচার ও ভোটার-সংযোগের ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা প্রয়োজন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের পরিচয় কেবল একটি প্রতীকের ওপর নির্ভর করার কথা নয়। দলের নীতি, প্রার্থী, সংগঠন, কাজের রেকর্ড এবং মানুষের কাছে তাদের বক্তব্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতীক নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে টানাপোড়েন তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনা যদি ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তাহলে মূল রাজনৈতিক প্রশ্নগুলি পিছনে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণ মানুষের কাছে তখন প্রশ্ন হতে পারে—কোন প্রতীক কার, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কে কী নীতি নিয়ে মানুষের সামনে যাচ্ছে?

আরও একটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন এবং সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের দাবি জানাতে পারে, আপত্তি জানাতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ পথে যেতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। সেই প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের আস্থা থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘চুড়ি’ বা অন্য কোনও প্রতীককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হলে ভাষার ব্যবহার নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনও প্রতীককে কেন্দ্র করে এমন কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়, যা লিঙ্গ, পেশা, সামাজিক পরিচয় বা কোনও সম্প্রদায়ের মানুষকে হেয় করে। একটি সাধারণ প্রতীককে রাজনৈতিক বিদ্রূপের অস্ত্র বানানো সহজ; কিন্তু তার সামাজিক অভিঘাত সবসময় ততটা সহজ নয়।

রাজনীতির সৌন্দর্য আসলে প্রতীক বদলের মধ্যে নয়, প্রতিযোগিতার মানের মধ্যে। প্রতীক বদলাতে পারে, দলের নাম নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, সংগঠনের ভিতরে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে—এসব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু ভোটারের কাছে শেষ পর্যন্ত যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—প্রার্থী কী বলছেন, দল কী করতে চাইছে এবং নির্বাচিত হলে মানুষের জন্য কী কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

তাই প্রতীকের লড়াই থাকতেই পারে, রাজনৈতিক বিতর্কও চলবে। কিন্তু সেই বিতর্ক যেন নীতির জায়গা দখল না করে। গণতন্ত্রে প্রতীক ভোটারকে প্রার্থী চিনিয়ে দেয়, কিন্তু ভোটারের সিদ্ধান্তকে অর্থবহ করে তোলে রাজনৈতিক বক্তব্য, কর্মসূচি এবং প্রার্থীর জবাবদিহি।

শেষ পর্যন্ত চুড়ি হোক, ফুল হোক, অন্য কোনও প্রতীক হোক—চিহ্নটি ব্যালটে একটি পরিচয় বহন করবে। কিন্তু সেই পরিচয়ের মূল্য নির্ধারণ করবে মানুষের মূল্যায়ন। রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্ব তাই প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজেদের নীতি, কর্মসূচি ও কাজের হিসাবও মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

কারণ নির্বাচনে প্রতীক চোখে পড়ে, কিন্তু গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা হয় মানুষের প্রশ্নের সামনে।