নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন কোস্টাল থানার তারানগর রায়পাড়ার সর্বজনীন মনসা পুজোর মঞ্চে গরু নিয়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর নাম না করে রাতে গরু পাচার এবং ‘গরু চৌকিদারি’র নামে টাকা তোলার অভিযোগ তুলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির পরাজিত প্রার্থী বিকাশ সরদার পাল্টা অভিযোগ তুলে বিধায়কের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
সভামঞ্চ থেকে বিকর্ণ নস্কর বলেন, রাত দেড়টা, দুটো বা তিনটের সময় টর্চ নিয়ে গরু পাহারা দেওয়ার নামে কিছু লোক ঘোরাফেরা করছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ‘চৌকিদারি’র আড়ালে টাকা তোলা বা গরু পাচারের ঘটনা ঘটলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধায়ক আরও বলেন, গরু কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রশাসনিক অনুমতি থাকা জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈধ নথি ছাড়া গরু পরিবহণ বা কেনাবেচার ক্ষেত্রে কেউ যুক্ত থাকলে প্রশাসন আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। একইসঙ্গে গরুর উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
অন্যদিকে,বিকাশ সরদারের দাবি, ‘গরু চৌকিদারি’র নামে যে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তাঁর বক্তব্য, বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর নাম করে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত তাঁর দিকেই বলে মনে করছেন তিনি।
বিকাশ সরদার অভিযোগ করেন, মা মনসা মন্দিরে গিয়ে ‘গরুর রচনা বিধায়কের ,রাতের অন্ধকারে গরু নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে এবং একটি গাড়িতে একসঙ্গে বহু গরু পরিবহণ করা হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।একইসঙ্গে বিধায়কের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন।
বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে বহু পরিবার গরু পালন ও কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। নদী ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় গবাদি পশু পরিবহণকে ঘিরে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এক গ্রামবাসীর দাবি, গরু কেনাবেচার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা এবং রাতের বেলায় বেআইনি পরিবহণ বন্ধ করা জরুরি।
দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গরু পরিবহণ, চৌকিদারির নামে টাকা নেওয়া এবং রাতের অন্ধকারে গরু পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে।গরু পরিবহণ, পশুর প্রতি নির্যাতন এবং বেআইনি পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ঘিরে এখন নজর প্রশাসনের দিকে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে পুলিশ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তা নিয়েই অপেক্ষা স্থানীয়দের।