Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বিজয়া দশমীতে জলপাইগুড়িতে ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রপুজো, দেবী দুর্গার চরণে অস্ত্র অর্পণ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের   •   বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের বড় সাফল্য! ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে পিছনে ফেলার দাবি   •   পশ্চিমবঙ্গে করমুক্ত নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’! দশেরার মঞ্চে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, উপস্থিত রণবীর কাপুর ও যশ   •   দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনেদি বাড়িতে নির্বিঘ্নে সিঁদুর খেলা, মনোরম আবহাওয়ায় উৎসবমুখর বিজয়া দশমী   •   ঢাকের শব্দে বিদায়ের সুর, বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা পুরান ঢাকায়   •   সপরিবারে রংমিলান্তি পোশাকে নবমীর সন্ধ্যা জমজমাট রাজ-শুভশ্রীর, নজর কাড়ল তারকা পরিবারের সাজ

জীবনতলায় বিজেপি-ISF সংঘর্ষে উত্তেজনা, আহত বহুজন,লাঠিচার্জ পুলিশের

06 Sep 2026
10:19 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: রাজনৈতিক সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা। বিজেপি, আইএসএফ ও সিপিএম কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। পুলিশ সূত্রে খবর, সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে আইএসএফ ও সিপিএমের একটি মিছিল পৌঁছয়। সেই সময় পার্টি অফিসের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি চলে আসে। শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান এবং বাদানুবাদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের আকার নেয়।

অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পাশাপাশি ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আইএসএফ ও সিপিএমের দাবি, এলাকায় অশান্তি তৈরি করার জন্য বিজেপিই দায়ী।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় শুক্রবার। ওই দিন আইএসএফ ও সিপিএম কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। তারই প্রতিবাদে শনিবার আইএসএফ ও সিপিএমের পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়। জীবনতলা থেকে মিছিল বের হওয়ার পর ফের উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী। দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ

ঘটনা নিয়ে বিজেপি নেতা বিকাশ সরদার অভিযোগ করেন, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আইএসএফ, তৃণমূল ও সিপিএমের চক্রান্তে দুষ্কৃতীদের ব্যবহার করে বিধানসভা এলাকাকে রক্তাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

বিকাশ সরদারের বক্তব্য, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এখানে শওকত মোল্লার রাজত্ব চলছে না, নওশাদ সিদ্দিকীর রাজত্ব চলছে না, বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের রাজত্বও চলছে না। এখানে রাষ্ট্রপতি সরকার চলছে।’’

আইএসএফের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে, বিজেপির সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে আইএসএফ। আইএসএফ নেতার বক্তব্য, বিকাশ সরদারের অভিযোগের কোনও গুরুত্ব নেই এবং তিনিই এলাকায় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, আইএসএফ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং উন্নয়নের পক্ষে কাজ করছে।

ঘটনার পর দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী এবং প্রথম হামলা কার পক্ষ থেকে হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

জীবনতলার এই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।