নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান। প্রয়াত হলেন বাসন্তী বিধানসভার নফরগঞ্জ অঞ্চলের বর্ষীয়ান বিজেপি নেত্রী শ্রীমতী আঙ্গুরবালা সাউ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আঙ্গুরবালা দেবী। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নফরগঞ্জ এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছিল। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি। রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে অত্যাচার এবং সিপিএমের কর্মীদের হাতে মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সেই পুরনো ঘটনাগুলি এখনও নফরগঞ্জ এলাকার মানুষের স্মৃতিতে রয়েছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
স্বামীকে বহু বছর আগেই হারিয়েছিলেন আঙ্গুরবালা দেবী। তাঁর পরিবারে রয়েছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে। পরিবারের এক ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক হলেও আঙ্গুরবালা দেবী নিজে দীর্ঘদিন বিজেপির কর্মী হিসেবেই সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি।
তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিজেপির রাজ্য স্টেট কাউন্সিল মেম্বার রামকৃষ্ণ প্রামাণিক, জেলা যুব সভাপতি উৎপল দত্ত, ১২৮ বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সরদার, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ গণেশ গিরি, জেলা সম্পাদক সুবল বিশ্বাস, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মিঠুন গায়েন, মণ্ডলের সহ-সভাপতি স্বপন মণ্ডল, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ পিনাকী গায়েন, রামপদ গিরি, বুথ সভাপতি অভিমন্যু গিরি, রাধেশ্যাম দাস-সহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় শ্মশানেই আঙ্গুরবালা দেবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
এদিন ১২৮ বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সরদার বলেন, “আঙ্গুরবালা দেবী বিজেপির দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাঁর হাত ধরে দলের বহু কর্মী আজ পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁকে হারিয়ে দলের মধ্যে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।”
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আঙ্গুরবালা দেবীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আগামী দিনে একটি স্মরণসভা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জেলা নেতৃত্বের তরফে।
৯১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যের জন্য আঙ্গুরবালা সাউয়ের প্রয়াণে নফরগঞ্জ ও বাসন্তীর রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।