নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপদেষ্টা তরুণ কাপুর দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ সফরে ধানবাদে পৌঁছেছেন। সফরের মূল লক্ষ্য ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (BCCL)-এর বিভিন্ন খনি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, ঝরিয়া এলাকার দীর্ঘদিনের ভূগর্ভস্থ আগুনের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।
সফরের শুরুতেই দুর্গাপুরের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে অবতরণের পর তরুণ কাপুর পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মা কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে যান। সেখানে তিনি মন্দিরে পুজো-অর্চনা করেন এবং মায়ের চরণে প্রণাম জানান। মন্দির চত্বরে BCCL-এর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা তাঁকে স্বাগত জানান।
পুজো দেওয়ার পর তরুণ কাপুর মাইথন ড্যামের কাছে অবস্থিত মজুমদার নিবাসে যান। সেখানে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)-এর প্রকল্প প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে ধানবাদের এসএসপি প্রভাত কুমার ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তরুণ কাপুরের সফরসূচিতে রয়েছে ধানবাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কয়লা ও শক্তি প্রকল্প পরিদর্শন। এর মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছে মুনিডিহ প্রকল্প। সেখানে কোল বেড মিথেন (CBM) প্রকল্প এবং আধুনিক ভূগর্ভস্থ খনি প্রযুক্তি ‘লংওয়াল’ প্রকল্পের কাজ ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।
এছাড়াও ঝরিয়া এলাকার কুস্তৌরের এনা ফায়ার প্রজেক্ট পরিদর্শন করবেন তিনি। কয়েক দশক ধরে ঝরিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন অংশে জ্বলতে থাকা ভূগর্ভস্থ আগুনের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলার কথা রয়েছে।
ঝরিয়া মাস্টার প্ল্যানের আওতায় পুনর্বাসন কাজও এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেলগড়িয়া ও কর্মাটাঁড় পুনর্বাসন এলাকায় গিয়ে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, নতুন আবাসন, পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
পাশাপাশি ঝরিয়া পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (JRDA)-এর অধীনে চলা বিভিন্ন কাজ এবং ঝরিয়া মাস্টার প্ল্যানের বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।
সফরের অংশ হিসেবে BCCL সদর দফতর কয়লা ভবনে সংস্থার শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এবং কোল ইন্ডিয়ার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকে কয়লা উৎপাদন, খনি নিরাপত্তা, অবৈধ কয়লা উত্তোলন রোধ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এছাড়াও ধানবাদ জেলা শাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, রেলওয়ে, NHAI এবং টেলিকম বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে আন্তঃবিভাগীয় পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয় বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঝরিয়া অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ আগুন, ভূমিধসের ঝুঁকি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির নিরাপদ ও স্থায়ী পুনর্বাসন দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সফরের পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে নীতিগত ও প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ আরও সুগম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।