নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - বাসন্তীর ঝড়খালি এলাকায় ফের চালু হলো ‘প্রগতি রথ’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার শিক্ষাকেন্দ্র। সংস্থার কর্ণধার অমৃতা বোসের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি দখল করে রাখা হয়েছিল এবং সেই সময়ে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রবিবার বিজেপি নেতৃত্ব, সমাজকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে পুনরায় দরজা খুলে দেওয়া হয় শিশুদের জন্য।
অভিযোগের তির তৃণমূলের SC/ST সেলের সভাপতি তথা বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির সভাধিপতি প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের বাবা দিলীপ মণ্ডলের দিকে। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে দিলীপ মণ্ডল ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাতেন।
সংস্থার কর্ণধার অমৃতা বোস জানান, ২০২৩ সালে এক বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠে ‘প্রগতি রথ’। গ্রামের গরিব শিশুদের পড়াশোনা ও সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল এই দোতলা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরবর্তীকালে সংস্থার কাছে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। সেই দাবি মানতে অস্বীকার করায় গভীর রাতে তাঁর ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রাণভয়ে সেদিন সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন বলেও দাবি অমৃতা বোসের।
এদিন সংস্থার পুনরায় উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ ঘোষ, অমল মণ্ডল, উৎপল দত্ত-সহ এলাকার একাধিক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। সংস্থার সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি দখলে থাকার কারণে ভেতরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন কক্ষে পড়ে রয়েছে বিড়ির কাগজ, নেশাজাতীয় সামগ্রীর চিহ্ন এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা থালা-বাসন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাতের অন্ধকারে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলত।
অমৃতা বোস আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার-সহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। এমনকি দরজা-জানালাও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ না মিললে আইনের দ্বারস্থ হবেন।
এদিন তিনি বলেন,
“দিলীপ মণ্ডল ও তাঁর সমাজবিরোধী সহযোগীদের বলব, ভদ্র হয়ে যান। না হলে বুলডোজার রেডি আছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন, ঝড়খালির মানুষকে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ করে দিন।”
অন্যদিকে বাসন্তী বিজেপির কনভেনর প্রদীপ সরদার বলেন,
“দিলীপ মণ্ডল, রাজা গাজী, দুলাল মণ্ডলের মতো anti-social দের ভগবানও বাঁচাতে পারবে না। এই মাটি বিজেপির মাটি।”
যদিও অভিযোগ নিয়ে দিলীপ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, নতুন করে ‘প্রগতি রথ’-এর পথচলা শুরু হওয়ায় এলাকার শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের নতুন দিশাও খুলতে পারে। বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও সংস্থার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আশাবাদী এলাকার মানুষ।