Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
৩৫০ বছরের ঐতিহ্য অটুট, সাড়ম্বরে পালিত হল বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক রথযাত্রা   •   মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় যোগ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের, বিগ্রহে প্রণাম করে টানলেন রথের রশি   •   বাংলায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন কারখানার উদ্বোধন আগামীকাল   •   হাসনাবাদে খারিজি মাদ্রাসার আড়ালে বিদেশ থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা আব্দুল্লা গাজির বাড়িতে উত্তরপ্রদেশ ATS-এর হানা   •   মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিগ্রহে প্রণাম করে টানলেন রথের রশি   •   তৃণমূলের হাতছাড়া এগরা–২ পঞ্চায়েত সমিতি, অনাস্থা ভোটে বোর্ড দখল করল বিজেপি

৩৫০ বছরের ঐতিহ্য অটুট, সাড়ম্বরে পালিত হল বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক রথযাত্রা

16 Jul 2026
12:31 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক-  প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে এ বছরও ভক্তি, আচার ও উৎসবের আবহে পালিত হল বারুইপুরের ঐতিহাসিক রায়চৌধুরী বাড়ির রথযাত্রা। রথযাত্রা উপলক্ষে সকাল থেকেই রায়চৌধুরী বাড়ি ও সংলগ্ন রাসময়দান ভরে ওঠে হাজার হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর সমাগমে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় অংশ নিতে বারুইপুরে ভিড় জমান।

ইতিহাস অনুযায়ী, জমিদার রাজবল্লভ রায়চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর নিজের বাড়িতেই শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই এই রথযাত্রার সূচনা। দীর্ঘ প্রায় ৩৫০ বছর ধরে রায়চৌধুরী পরিবারের উদ্যোগে একই রীতি-নীতি ও ধর্মীয় আচার মেনে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কোনো ভাটা পড়েনি।

রথযাত্রার দিন বিশেষ পূজা, মন্ত্রোচ্চারণ, আরতি ও ভোগ নিবেদনের পর সুসজ্জিত রথে শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে আরোহন করানো হয়। এরপর হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শুরু হয় রথ টানার পর্ব। রথের দড়িতে একবার হাত রাখার জন্যও ভক্তদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ। অনেকের বিশ্বাস, নিষ্ঠার সঙ্গে রথ টানলে জীবনে শুভ ফল লাভ হয় এবং মনস্কামনা পূরণ হয়।

রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রায়চৌধুরীদের ঐতিহ্যবাহী রাসময়দানে বসেছে বিশাল মেলা, যা প্রায় এক মাস ধরে চলবে। মেলায় রয়েছে খেলনা, পোশাক, গৃহস্থালির সামগ্রী, হস্তশিল্প, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। গরম জিলিপি, ভাজা বাদামসহ নানা মুখরোচক খাবারের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শিশুদের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থাও দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে।

এই রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একসময় এই রায়চৌধুরী বাড়িতে কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন এবং তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী-এর একটি বড় অংশ এখানেই রচিত হয়েছিল বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি সাহিত্য-ইতিহাসের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িত।

পুরীর জগন্নাথধামের রথযাত্রার আদলে বারুইপুরের এই ঐতিহাসিক রথযাত্রাও প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, লোকসংস্কৃতির রঙ এবং শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এই উৎসব আজও সমান জনপ্রিয়। ভক্তদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়।

শতাব্দীপ্রাচীন এই রথযাত্রা আজও বারুইপুরের গর্ব। ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং লোকজ সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধনে রায়চৌধুরী বাড়ির এই ঐতিহাসিক উৎসব প্রতি বছরই নতুন প্রজন্মকে বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।

news home ads