নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের বাড়ি থেকে তৃণমূলের প্রধান শিলাদিত্য রায় এবং তৃণমূল কর্মী তন্ময় দেবনাথকে গ্রেফতারের পর শনিবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধৃতদের ক্যানিং থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানা চত্বরেই তন্ময় দেবনাথকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেই অভিযান থেকেই শিলাদিত্য রায় ও তন্ময় দেবনাথকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাঁদের ক্যানিং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার সকালে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলাকালীনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, ধৃতদের থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার একাংশ তন্ময় দেবনাথকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করে। আচমকা এই ঘটনায় থানা চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধৃতকে ঘিরে জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
পুলিশ সূত্রের দাবি, তন্ময় দেবনাথের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ক্যানিং থানায় ঢুকে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, থানায় ভাঙচুর এবং এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরির মতো অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল বলে সূত্রের খবর।
অবশেষে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়কের বাড়ি থেকে তাঁর গ্রেফতারির পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তবে অতীতে ওঠা অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা এবং সেগুলির আইনি নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সেগুলিকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার সকালে ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিম ছোড়ার ঘটনাটি ক্যানিংয়ের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। থানা চত্বরে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ডিম ছোড়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় কী এবং এই ঘটনায় কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
একদিকে তৃণমূলের দুই ব্যক্তির গ্রেফতারি, অন্যদিকে ধৃত তন্ময় দেবনাথকে লক্ষ্য করে জনতার একাংশের ডিম ছোড়া—পরপর এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক আবহে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিধায়কের বাড়ি থেকে গ্রেফতারির বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
ক্যানিং দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা। সেখানে শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার সঙ্গে থানা চত্বরে ধৃতকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা কতটা বাড়বে, কিংবা গ্রেফতার হওয়া দু’জনের বিরুদ্ধে তদন্তে কী উঠে আসে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পুলিশের তদন্ত, আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যের দিকেই নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ক্যানিংয়ে শিলাদিত্য রায় ও তন্ময় দেবনাথের গ্রেফতারির পর শনিবার থানা চত্বরে ডিম ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অতীতের অভিযোগ, বর্তমানের গ্রেফতারি এবং আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে জনতার ক্ষোভ—সব মিলিয়ে ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।