Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
ধুনুচির তালে খোশমেজাজে তারকারা, পুজোর আবহে জমজমাট তারকাদের আড্ডা   •   কাকদ্বীপে প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর, চোরবাগান দুর্ঘটনায় মৃত স্নেহা ভান্ডারীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি   •   বাড়িতে মাছ চাষ শুরু করার ১০টি কারণ, অল্প জায়গায় ব্যবসার সুযোগ ও বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা   •   স্বাস্থ্য ভবন থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলির সঙ্গে বৈঠক, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সুশাসনে বিশেষ জোর   •   নিউ ইয়র্কের পর এবার কলকাতাতেও ঘোড়ায় টানা গাড়ি বন্ধের উদ্যোগ! বিকল্প হিসেবে আসছে ই-ভিক্টোরিয়া?   •   টমেটো গাছের পাতা কুঁকড়ে যাওয়া রোগ দমনের সঠিক সমাধান, ফলন বাঁচাতে কী করবেন চাষিরা?

নিউ ইয়র্কের পর এবার কলকাতাতেও ঘোড়ায় টানা গাড়ি বন্ধের উদ্যোগ! বিকল্প হিসেবে আসছে ই-ভিক্টোরিয়া?

24 Oct 2026
06:47 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ায় টানা গাড়ি কি এবার অতীত হতে চলেছে? নিউ ইয়র্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ি বন্ধ করার জন্য আইন পাসের পর এবার কলকাতাতেও এই পরিবহণ ব্যবস্থার বিকল্প নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শহরের ময়দান ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ঘোড়ায় টানা গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই দৃশ্য। কিন্তু পশুকল্যাণ, ঘোড়ার স্বাস্থ্য এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। এবার সেই বিতর্কের মধ্যেই ঘোড়ায় টানা গাড়ির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী নকশার বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ই-কারেজ চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব সামনে এসেছে।

৮ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল কলকাতার ঘোড়ায় টানা পর্যটক গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালুর একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ নিয়ে কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, পশুকল্যাণ সংস্থা পেটা ইন্ডিয়া, CAPE Foundation এবং ঘোড়ার গাড়ির মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তবে এখনই কলকাতায় ঘোড়ায় টানা গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না। আপাতত বৈদ্যুতিক বিকল্পের কার্যকারিতা যাচাই, ঘোড়ার কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা রক্ষার বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


নিউ ইয়র্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?

কলকাতায় ঘোড়ায় টানা গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাওয়ার অন্যতম কারণ নিউ ইয়র্কের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ‘রোমাঞ্চ’স ল’ নামে একটি বিল পাস করেছে। এই বিল অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ১ জুনের মধ্যে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ির পরিষেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে মেয়রের স্বাক্ষর প্রয়োজন। অর্থাৎ, কাউন্সিল বিল পাস করলেও প্রক্রিয়াটির পরবর্তী ধাপ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় পর্যটক ১৮ বছর বয়সি রোমাঞ্চ মহাজনের মৃত্যুর পর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দাবি আরও জোরালো হয়। চলতি বছরের জুনে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় রোমাঞ্চের মৃত্যু ঘিরে জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়ার স্বাস্থ্য, পশুকল্যাণ এবং ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় ঘোড়ায় টানা গাড়ি চালানোর ঝুঁকি নিয়েও বিতর্ক চলছিল।

নিউ ইয়র্কের প্রস্তাবিত পরিবর্তনে শুধু গাড়ি বন্ধ করার বিষয়টিই নয়, এই পেশার সঙ্গে যুক্ত চালক ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তাঁদের নতুন কাজের সুযোগ খুঁজতে সহায়তা, কর্মসংস্থান সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিকল্প জীবিকার পথ তৈরির কথা বলা হয়েছে। ঘোড়াগুলির ভবিষ্যৎ ও নিরাপদ পুনর্বাসনের বিষয়টিও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তথ্যসূত্র: নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সরকারি বিবৃতি, ২২ অক্টোবর ২০২৬।

কলকাতার ময়দানেও কি বদলাবে পরিচিত ছবি?

কলকাতার ময়দান, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং আশপাশের পর্যটন এলাকায় ঘোড়ায় টানা গাড়ি দীর্ঘদিনের পরিচিত দৃশ্য। শহরের ঐতিহাসিক পরিবেশের সঙ্গে এই গাড়িগুলির একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অনেকেই কলকাতায় এসে এই গাড়িতে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে চান। ফলে ঘোড়ায় টানা গাড়ি কেবল একটি পরিবহণের মাধ্যম নয়, শহরের পর্যটন সংস্কৃতিরও একটি অংশ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। ঘোড়াগুলিকে কতটা উপযুক্ত পরিবেশে রাখা হচ্ছে, তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও জল দেওয়া হচ্ছে কি না, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন পশুকল্যাণকর্মীদের উদ্বেগের কারণ। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রী বহন, গরম আবহাওয়ায় চলাচল এবং ব্যস্ত রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে চলার মতো বিষয়গুলিও ঘোড়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, ঘোড়ার গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে এই পেশা জীবিকা নির্বাহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বহু বছর ধরে তাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। হঠাৎ করে পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের আয়ের উৎসে প্রভাব পড়তে পারে। তাই কলকাতায় বিকল্প ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে পশুকল্যাণের পাশাপাশি এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ভবিষ্যৎও বিবেচনা করা জরুরি।

ঘোড়ার গাড়ির বিকল্প হিসেবে কী হতে পারে ই-কারেজ?

কলকাতায় আলোচনায় উঠে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ায় টানা গাড়ির মতো দেখতে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ই-কারেজ। এই ধরনের গাড়িতে ঘোড়ার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হবে। ফলে পর্যটকেরা পরিচিত ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের গাড়িতে চড়ার অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, অথচ গাড়ি টানার জন্য কোনও প্রাণীকে ব্যবহার করতে হবে না।

প্রস্তাবিত পরীক্ষামূলক প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, এই বৈদ্যুতিক গাড়িগুলি বর্তমান ঘোড়ায় টানা গাড়ির রুটে চালানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করা। গাড়ির নিরাপত্তা, যাত্রী বহনের ক্ষমতা, পরিচালন ব্যয়, চার্জ দেওয়ার পরিকাঠামো এবং পর্যটকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—সব দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ই-কারেজ চালু হলে পর্যটন এলাকার ঐতিহ্যবাহী চেহারা বজায় রাখার সুযোগ থাকতে পারে। গাড়ির নকশা এমনভাবে তৈরি করা সম্ভব, যাতে সেটি দেখতে পুরনো ভিক্টোরিয়া গাড়ির মতো হয়। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে গাড়ির নকশা, প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার ওপর।

শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি চালু করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা নয়। পর্যটকদের নিরাপদে ওঠানামার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট, যান চলাচলের নিয়ম এবং চালকদের প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষামূলক প্রকল্প কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্রস্তাবিত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রশাসন সরাসরি পরীক্ষা করে দেখতে পারবে, কলকাতার ময়দান ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকায় ই-কারেজ চালানো কতটা সুবিধাজনক। প্রথম পর্যায়ে সীমিত সংখ্যক গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা যেতে পারে।

এই পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, গাড়িগুলি পর্যটকদের বহনের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাস্তার অবস্থা, ভিড় এবং পর্যটকদের চলাচলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গাড়ির গতি ও রুট নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, চার্জিং ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হিসাব করতে হবে। চতুর্থত, বর্তমান ঘোড়ার গাড়ির মালিক ও চালকেরা নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত হতে পারবেন, তা স্পষ্ট করতে হবে।

পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে তার আগে প্রকল্পের খরচ, পরিচালন পদ্ধতি এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

জীবিকা রক্ষার প্রশ্নও বড় চ্যালেঞ্জ

ঘোড়ায় টানা গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কথা উপেক্ষা করা যাবে না। ঘোড়ার গাড়ি চালানো, ঘোড়ার পরিচর্যা, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটকদের পরিষেবা দেওয়ার সঙ্গে একাধিক মানুষের জীবিকা জড়িয়ে থাকতে পারে।

যদি ভবিষ্যতে ঘোড়ায় টানা গাড়ির পরিবর্তে ই-কারেজ চালু হয়, তাহলে বর্তমান চালক ও মালিকদের সেই ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, গাড়ি পরিচালনার অনুমতি, আর্থিক সহায়তা এবং নতুন ব্যবস্থায় কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা দরকার।

কারণ, পশুকল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনও পরিবর্তন আনা হলে সেই পরিবর্তনের ফলে শ্রমজীবী মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতার ক্ষেত্রে তাই ঘোড়ার নিরাপত্তা, পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং কর্মীদের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

পশুকল্যাণ ও পর্যটনের মধ্যে ভারসাম্য

ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পশুকল্যাণ। ঘোড়াগুলিকে পর্যাপ্ত খাবার, বিশ্রাম, জল এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গরমের সময় দীর্ঘক্ষণ কাজ করানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অসুস্থ অবস্থায় ঘোড়াকে কাজে লাগানোর মতো বিষয়গুলি এড়ানো জরুরি।

যদি বৈদ্যুতিক গাড়ির বিকল্প বাস্তবসম্মত হয়, তাহলে পশুর ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন অভিজ্ঞতাও অন্যভাবে ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

তবে পর্যটকদের কাছে ই-কারেজ কতটা জনপ্রিয় হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গাড়ির ভাড়া, পরিষেবার মান, ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং সামগ্রিক অভিজ্ঞতার ওপর পর্যটকদের আগ্রহ নির্ভর করবে। সেই কারণে প্রশাসনের উচিত পর্যটক, গাড়ির মালিক, চালক এবং পশুকল্যাণ সংস্থাগুলির মতামত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

কলকাতায় কি সত্যিই বন্ধ হচ্ছে ঘোড়ায় টানা গাড়ি?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর হল, কলকাতায় ঘোড়ায় টানা গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে যে উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে, তা হল ঐতিহ্যবাহী গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রস্তাব।

অতএব, নিউ ইয়র্কের মতো কলকাতাতেও ঘোড়ায় টানা গাড়ি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন চূড়ান্ত দাবি করা এখনই ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ায় টানা গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কলকাতার ঘোড়ায় টানা গাড়ি শহরের ইতিহাস ও পর্যটনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সেই পরিচিত ঐতিহ্য বজায় রাখা, ঘোড়াদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা রক্ষা—তিনটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নিউ ইয়র্কে ঘোড়ায় টানা গাড়ি বন্ধ করার জন্য বিল পাস হওয়ার পর কলকাতায় বৈদ্যুতিক বিকল্পের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত শহরের রাস্তায় কী ধরনের গাড়ি চলবে, তা নির্ভর করবে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর।

কলকাতার ঐতিহ্য কি ঘোড়া ছাড়াই নতুন রূপে বেঁচে থাকবে? নাকি বর্তমান ব্যবস্থার কিছু অংশ বজায় রেখে নতুন নিয়ম চালু হবে? সেই উত্তর এখনও ভবিষ্যতের হাতে।