Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী

23 Oct 2026
12:15 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  আধুনিক যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র পাকা রাস্তা, উন্নত পরিকাঠামো এবং সহজ যাতায়াতের কথা বলা হয়। কিন্তু সেই উন্নয়নের ছবির আড়ালেই রয়ে গিয়েছে এমন কিছু গ্রাম, যেখানে নদী বা খাল পারাপারের জন্য আজও ভরসা কাঠের সেতু, বাঁশের সাঁকো কিংবা অস্থায়ীভাবে তৈরি পথ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের একাধিক গ্রামে এমনই ছবি দেখা যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় দিন কাটছে বহু মানুষের। ভোট আসে, ভোট যায়, বদলায় রাজনৈতিক সমীকরণ—কিন্তু গ্রামবাসীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, হোটোগঞ্জ, কুলপি, করঞ্জলী-সহ ব্লকের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাঠের সেতুর উপর নির্ভর করে পারাপার করছেন। কোথাও সেতুর অবস্থা জরাজীর্ণ, কোথাও আবার মেরামতি করেই কোনওরকমে চলাচলের উপযোগী করে রাখা হয়। নদী-খালবেষ্টিত এই অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য স্থায়ী সেতু যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনই প্রমাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি না মেলায় প্রশ্ন উঠছে, উন্নয়নের দাবি আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এত ব্যবধান কেন?

৩৪ বছরের অপেক্ষা, তবুও স্থায়ী সমাধান অধরা

কুলপি ব্লকের কয়েকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে কাঠের সেতু ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৩৪ বছর ধরে কোনও কোনও এলাকায় এই ধরনের অস্থায়ী সেতুই মানুষের পারাপারের অন্যতম ভরসা। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বেড়েছে, মানুষের চাহিদা বদলেছে, দৈনন্দিন কাজের পরিধি বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।

একটি সেতু শুধু দুই প্রান্তের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক যোগাযোগ। গ্রামের কোনও প্রান্তে বসবাসকারী মানুষকে অন্য প্রান্তে যেতে হলে যদি দুর্বল কাঠের সেতুর উপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে প্রতিদিনই তাঁকে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়।

বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী-খালের জল বাড়লে কিংবা সেতুর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। কাঠের পাটাতন পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, বাঁশের অংশ আলগা হয়ে পড়া কিংবা সেতুর কোনও অংশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা পারাপারের ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও প্রতিটি সেতুর বর্তমান অবস্থা আলাদাভাবে পরিদর্শন করা প্রয়োজন, তবু দীর্ঘদিনের অস্থায়ী পরিকাঠামোর উপর মানুষের নির্ভরতা যে উদ্বেগের বিষয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ভোট আসে, ভোট যায়—প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কোথায়?

গণতন্ত্রে ভোট মানুষের অধিকার। ভোটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন এবং এলাকার উন্নয়নের প্রত্যাশা করেন। রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা—এগুলি গ্রামীণ উন্নয়নের মৌলিক বিষয়। কিন্তু কোনও এলাকায় বছরের পর বছর ধরে সেতুর সমস্যা থেকে গেলে স্বাভাবিকভাবেই জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

কুলপির বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, যদি এত বছর ধরে মানুষ কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হন, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ কোথায়? শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তাঁরা চান কাজের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা, বরাদ্দ অর্থের হিসাব এবং নির্মাণকাজ শুরুর স্পষ্ট সময়সীমা।

তবে কোনও নির্দিষ্ট সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি কে দিয়েছিলেন, কোন প্রকল্পে কাজ আটকে রয়েছে কিংবা কোন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব পড়ে রয়েছে—এসব বিষয় সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। কিন্তু সেই তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকলেও গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের দাবি অযৌক্তিক হয়ে যায় না।

জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হল এলাকার মৌলিক সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। তাই কুলপির সেতু সমস্যার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন কথার বদলে কাজের অগ্রগতি এবং জবাবদিহি।

১৮০টি সেতু নিয়ে উদ্বেগ, প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা

স্থানীয়ভাবে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কুলপি ব্লকের প্রায় ১৮০টি সেতুকে ঘিরে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংখ্যা সরকারি ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন হলেও, বিষয়টি যদি বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন হয়, তাহলে সমস্যার ব্যাপকতা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

প্রথমেই ব্লকের সমস্ত সেতুর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। কোন সেতু কাঠের, কোনটি বাঁশের, কোনটির কাঠামো দুর্বল, কোথায় যানবাহন চলাচল সম্ভব নয় এবং কোথায় শুধু পথচারীরা পারাপার করেন—এসব তথ্য নথিভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি কোন সেতু কোন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আওতায় পড়ে, তা নির্দিষ্ট করতে হবে।

সব সেতুর জন্য একই ধরনের নির্মাণ পরিকল্পনা কার্যকর হবে না। কোথাও ছোট কংক্রিটের সেতু যথেষ্ট হতে পারে, আবার কোথাও নদী বা খালের প্রস্থ, জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি, জলপ্রবাহ এবং মাটির প্রকৃতি বিবেচনা করে বড় পরিকাঠামোর প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু সেতু নির্মাণের ঘোষণা নয়, প্রযুক্তিগত সমীক্ষা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাই হওয়া উচিত প্রথম পদক্ষেপ।

একটি সেতুর কাজ শেষ করতে কত অর্থ লাগবে, কোন প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে এবং নির্মাণকাজের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে—এই তথ্যগুলি প্রকাশ্যে এলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে কোন সেতুগুলি সবচেয়ে বিপজ্জনক, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

নিজেরাই মেরামতি করেন গ্রামবাসীরা?

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কাঠের সেতু ভেঙে গেলে বা পাটাতন নড়বড়ে হয়ে পড়লে গ্রামবাসীরাই উদ্যোগ নিয়ে মেরামতির ব্যবস্থা করেন। কখনও নিজেদের অর্থ, কখনও স্থানীয় স্তরের তহবিল, আবার কখনও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাহায্যের অপেক্ষায় থেকে কোনওরকমে পারাপারের পথ সচল রাখার চেষ্টা করা হয় বলে তাঁদের বক্তব্য।

গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগ তাঁদের প্রয়োজনের তীব্রতাকেই তুলে ধরে। প্রতিদিন কাজের জন্য বেরোতে হয়, শিশুদের স্কুলে যেতে হয়, অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। তাই সেতু ভেঙে গেলে বা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে অপেক্ষা করার সুযোগ অনেক সময় থাকে না। বাধ্য হয়েই মানুষ সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

কিন্তু প্রশ্ন হল, জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় একটি সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কতটা সাধারণ মানুষের উপর ছেড়ে দেওয়া যায়? কাঠ বা বাঁশ দিয়ে সাময়িক মেরামতি করলে তা কতদিন টিকবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া দুর্বল কাঠামো মেরামত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থেকে যেতে পারে।

সেতু নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার দায়িত্ব, অর্থ বরাদ্দের স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা দরকার। গ্রামবাসীদের উদ্যোগকে সম্মান জানিয়েই বলতে হয়, স্থায়ী সরকারি পরিকাঠামোর বিকল্প হিসেবে তাঁদের অনির্দিষ্টকাল কাঠের সেতুর উপর নির্ভর করে থাকা উচিত নয়।

নদীমাতৃক কুলপিতে সেতুর গুরুত্ব আরও বেশি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু এলাকা নদী, খাল ও জলপথের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কুলপি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামেও স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের জন্য সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। নদী বা খাল যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ, তেমনই তা অনেক সময় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের পথে বাধাও হয়ে দাঁড়ায়।

সেই বাধা দূর করতে নিরাপদ ও স্থায়ী সেতু প্রয়োজন। সেতু না থাকলে অথবা সেতুর অবস্থা খারাপ হলে গ্রামের মানুষকে ঘুরপথে যাতায়াত করতে হতে পারে। এতে সময় ও খরচ বাড়ে। ছোট ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী, শ্রমজীবী মানুষ এবং পড়ুয়াদের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সেতু শুধু যাতায়াতের সুবিধা দেয় না, গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও গতিশীল করে। পণ্য পরিবহণ সহজ হয়, বাজারে পৌঁছনোর সময় কমে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিষেবা গ্রহণ করাও তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। ফলে কুলপির মতো এলাকায় সেতু নির্মাণকে শুধুমাত্র একটি নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

দুর্বল সেতুতে ঝুঁকির মুখে সাধারণ মানুষ

কাঠের সেতু বা বাঁশের সাঁকো অনেক সময় স্থানীয় প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত তৈরি করা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ব্যবহার এবং আবহাওয়ার প্রভাবে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বৃষ্টি, আর্দ্রতা, জলস্তরের ওঠানামা এবং নিয়মিত চাপের কারণে সেতুর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত প্রতিটি সেতুর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা। কোথাও পাটাতন ভাঙা, রেলিং অনুপস্থিত বা কাঠামো নড়বড়ে থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিপজ্জনক সেতুতে চলাচল সীমিত করা, সতর্কবার্তা লাগানো এবং বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা জরুরি।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকলে দুর্বল সেতু দিয়ে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থায়ী সেতু নির্মাণের আগে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

নতুন সরকার কি দেবে স্থায়ী সমাধানের দিশা?

কুলপির মানুষের এখন প্রধান দাবি, তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। নতুন সরকার বা প্রশাসনিক নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা—কাঠের সেতুর পরিবর্তে নিরাপদ কংক্রিটের স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনও সরকার বদলালেই সমস্যা আপনা-আপনি মিটে যায় না। তার জন্য দরকার প্রশাসনিক উদ্যোগ, অর্থ বরাদ্দ, প্রকল্প অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যবস্থা।

প্রথম ধাপে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলিকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। এরপর প্রযুক্তিগত সমীক্ষার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে নির্মাণকাজ শুরু করা দরকার। যে প্রকল্পগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন, সেগুলির অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হতে পারে—প্রতিটি সেতু প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য ব্যয়, বরাদ্দ এবং কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। এতে শুধু স্বচ্ছতা বাড়বে না, স্থানীয় বাসিন্দারাও বুঝতে পারবেন তাঁদের এলাকার সমস্যা সমাধানে কতটা অগ্রগতি হয়েছে।

প্রতিশ্রুতির বদলে চাই বাস্তব কাজ

উন্নয়নের পরিমাপ শুধু বড় রাস্তা, উঁচু ভবন কিংবা শহরের আধুনিক পরিকাঠামো দিয়ে হয় না। কোনও প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ নিরাপদে নদী পার হতে পারছেন কি না, কোনও শিশু প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ঝুঁকির মুখে পড়ছে কি না, কোনও অসুস্থ মানুষ দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারছেন কি না—এসব প্রশ্নও উন্নয়নের মাপকাঠি।

কুলপির কাঠের সেতু ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা সেই মৌলিক প্রশ্নগুলিকেই নতুন করে তুলে ধরছে। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী কাঠামোর উপর নির্ভরশীল মানুষের কাছে কংক্রিটের সেতু কোনও বিলাসিতা নয়; এটি নিরাপদ যাতায়াতের প্রয়োজন। তাই তাঁদের দাবি উপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা।

অবশ্যই সব সেতু একসঙ্গে নির্মাণ করা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করবে অর্থ, প্রযুক্তিগত প্রয়োজন এবং প্রকল্পের অগ্রাধিকারের উপর। কিন্তু কোন সেতু আগে হবে, কেন হবে এবং বাকি সেতুগুলির জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে—তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার।

শেষ কথা: কাঠের সেতু নয়, চাই নিরাপদ ভবিষ্যতের সংযোগ

কুলপি ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে কাঠের সেতু নিয়ে ওঠা অভিযোগ আসলে গ্রামীণ পরিকাঠামোর এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রায় ৩৪ বছরের অপেক্ষার কথা যেমন স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ করে, তেমনই প্রায় ১৮০টি সেতু নিয়ে ওঠা দাবি সমস্যাটির ব্যাপকতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।

ভোটের সময় মানুষের প্রত্যাশা থাকে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করবেন। সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চান কুলপির বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা, কাজ শুরুর সময়সীমা এবং বাস্তব অগ্রগতির খবর চাই।

কুলপির নদী-খাল পারাপারে কাঠ ও বাঁশের অস্থায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে হলে প্রশাসনকে এখনই সমীক্ষা, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পর্যায়ক্রমিক নির্মাণের পথে এগোতে হবে। গ্রামবাসীদের জীবিকা ও দৈনন্দিন চলাচল যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সেতু কেবল নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করে না, যুক্ত করে মানুষের জীবন, জীবিকা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে। তাই কুলপির মানুষের দাবি স্পষ্ট—বছরের পর বছর কাঠের সেতুর উপর নির্ভরতা নয়, চাই নিরাপদ, স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই দাবিকে কত দ্রুত বাস্তব কাজের মধ্যে দিয়ে মর্যাদা দিতে পারে।