নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দ ও উৎসবের রেশ কাটতেই শুরু হয়েছে জলাশয় এবং ঘাট পরিষ্কারের কাজ। দেবী দুর্গার নিরঞ্জন সম্পন্ন হওয়ার পর পুকুর ও নদীর ঘাটগুলিকে ফের পরিচ্ছন্ন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ঘাট পরিষ্কারের যে কর্মসূচি চলছে, তারই অংশ হিসেবে কুলটি বিধানসভা এলাকাতেও জোরকদমে চলছে সাফাই অভিযান। পুজোর আবর্জনা সরিয়ে জলাশয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ঘাটগুলিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
কুলটির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ডাঃ অজয় কুমার পোদ্দারের দিশা-নির্দেশে বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও ঘাটে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর সময় প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে জলাশয়ের আশপাশে ফুল, বেলপাতা, পুজোর অন্যান্য সামগ্রী এবং প্রতিমার কাঠামোর বিভিন্ন অংশ জমা হয়। নিরঞ্জনের পর সেই সমস্ত বর্জ্য সময়মতো সরিয়ে না ফেললে ঘাটের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ার পাশাপাশি জলদূষণের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই দ্রুত সাফাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই আসানসোল পৌর নিগমের সাফাইকর্মীরা কুলটি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন ঘাটে পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। ঘাটে জমে থাকা পুজোর আবর্জনা সরানো, ফুল ও বেলপাতা সংগ্রহ করা এবং প্রতিমার কাঠামোর অংশগুলি পরিষ্কার করার কাজ চলছে। দ্রুততার সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করে জলাশয়ের চারপাশ পরিচ্ছন্ন করে তোলার চেষ্টা করছেন কর্মীরা।
এদিন কুলটির নিয়ামতপুর সরকার পুকুরঘাটে সাফাই অভিযানের ছবি ধরা পড়ে। সেখানে নিরঞ্জনের পর জমে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে ঘাটকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলাশয়ের আশপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি কমাতে এই কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপুজো বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। পুজোর শেষ দিনে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পুকুর ও নদীর ঘাটে মানুষের ভিড় হয়। সেই সময় পুজোর সামগ্রী ও প্রতিমার কাঠামোর অংশ জলাশয়ের আশপাশে জমা হতে পারে। উৎসবের পর দ্রুত সেগুলি সরিয়ে ফেলা পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জলাশয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আবর্জনা পড়ে থাকলে তার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে ঘাটে চলাচলকারী মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। তাই নিরঞ্জনের পরপরই সাফাই অভিযান চালানো হলে একদিকে যেমন ঘাটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয়, তেমনই জলাশয়কে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার প্রচেষ্টাও জোরদার হয়।
কুলটি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন পুকুর ও ঘাটে এই ধরনের পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশা, দ্রুত সাফাইয়ের কাজ শেষ হলে ঘাটগুলি আবার স্বাভাবিক ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।
আসানসোল পৌর নিগমের সাফাইকর্মীদের এই তৎপরতায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। উৎসবের পর জলাশয়ের চারপাশে জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন যাঁরা পুকুরঘাট ব্যবহার করেন, তাঁদেরও স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে সুবিধা হবে।
স্থানীয় স্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। পুজোর সামগ্রী নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, জলাশয়ে প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্য না ফেলা এবং নিরঞ্জনের পর ঘাট পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করা গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
দুর্গাপুজোর উৎসব শেষ হলেও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। জলাশয় ও ঘাট পরিষ্কার রাখা শুধু প্রশাসনের কাজ নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। নিরঞ্জনের পর দ্রুত বর্জ্য সরানো এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে জলাশয়ের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
কুলটি বিধানসভা এলাকায় চলা এই সাফাই অভিযান সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়ামতপুর সরকার পুকুরঘাট-সহ বিভিন্ন ঘাটে পরিষ্কারের কাজের মাধ্যমে জলাশয়গুলিকে ফের পরিচ্ছন্ন করে তোলার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও পৌর নিগমের কর্মীদের এই উদ্যোগের ফলে ঘাটগুলির পরিবেশ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেগুলি ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।