Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কি বাংলায়? অন্ধ্র-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোনোর সম্ভাবনা, সতর্ক নজর আবহাওয়া দপ্তরের

23 Oct 2026
10:20 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনকে ঘিরে পূর্ব ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি আগামী কয়েক দিনে ক্রমশ শক্তিশালী হতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলার উপকূলেও কি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে? বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আবহাওয়ার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, এমন কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। নিম্নচাপটির গতিপথ, শক্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়, কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপটি পর্যায়ক্রমে আরও শক্তিশালী হতে পারে। পূর্বাভাসের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর এটি গভীর নিম্নচাপে এবং ২৫ অক্টোবর অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন আবহাওয়াগত পূর্বাভাসের উপর নির্ভরশীল; বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী এর সময় ও তীব্রতা বদলাতে পারে। 

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নিম্নচাপ তৈরি হলেই যে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নয়। একইভাবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেও সেটি কোন উপকূলের দিকে এগোবে, তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

বাংলার উপকূলে কি পড়বে প্রভাব?

এই মুহূর্তে আবহাওয়া দপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে সম্ভাব্য অভিমুখ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের কথা বলা হয়েছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা এখনই নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা যায় না। 

তবে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুধু যেখানে সেটি স্থলভাগে প্রবেশ করে, সেই এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যবস্থাটির আকার, শক্তি এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে উপকূলবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত বা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে তাই রাজ্যভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে সুন্দরবন, সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ, নামখানা, বকখালি, দিঘা ও সংলগ্ন উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা উচিত। তবে এই এলাকাগুলিতে নির্দিষ্ট মাত্রার দুর্যোগ আসন্ন, এমন কোনও দাবি বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে করা যাচ্ছে না।

মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা

নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আবহাওয়া দপ্তরের ২৩ অক্টোবরের পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন অংশে প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্ভাবনা এবং সমুদ্রযাত্রা সংক্রান্ত সতর্কতার কথা উল্লেখ রয়েছে। 

সমুদ্রে যাওয়ার আগে মৎস্যজীবীদের সংশ্লিষ্ট বন্দর, মৎস্য দপ্তর এবং আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়া উচিত। কোথাও সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলে তা কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। সমুদ্রে ইতিমধ্যে থাকা নৌকা বা ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—এই নির্দিষ্ট সময়সীমাটি বর্তমান উপলব্ধ সরকারি তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এই তথ্যকে সরকারি নির্দেশিকা হিসেবে প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষ কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার:

  • আবহাওয়া দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করুন।

  • সমুদ্র উত্তাল থাকলে সৈকত, নদীর মোহনা ও বিপজ্জনক উপকূলবর্তী এলাকায় যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

  • ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হলে দুর্বল গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও অস্থায়ী কাঠামো থেকে দূরে থাকুন।

  • জরুরি প্রয়োজনের জন্য পানীয় জল, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মোবাইল ফোন চার্জ রাখুন।

  • প্রশাসনের তরফে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তা মেনে চলুন।

পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর

বঙ্গোপসাগরের এই নিম্নচাপ আগামী দিনে কতটা শক্তিশালী হয় এবং কোন দিকে অগ্রসর হয়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে। বর্তমানে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে হলেও আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া কিংবা সমুদ্র উত্তাল হওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট সতর্কতা জারি হলে সরকারি ঘোষণাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপকে ঘিরে সতর্ক নজর রাখা প্রয়োজন। তবে এখনই বাংলায় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।