Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
৩৪ বছরেও বদলায়নি ছবি! কুলপির ১৮০টি সেতুতে ভরসা কাঠ-বাঁশ, স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় গ্রামবাসী   •   টোটো-অটোর দাপটে বিপর্যস্ত রাস্তাঘাট, যানজট ও দুর্ঘটনা রুখতে চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ   •   দেশজুড়ে ৪০ লক্ষেরও বেশি টুথপেস্ট টিউব প্রত্যাহার, তালিকায় শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও   •   ৯টি সেরা উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস, যা আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো   •   দেবী বিসর্জনের পর পুকুরঘাটে জোরকদমে সাফাই অভিযান, পরিচ্ছন্ন হচ্ছে কুলটির জলাশয়   •   WTC 2027-এ শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, চাপের কথা স্বীকার করলেন তেম্বা বাভুমা

সামাজিক অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টা সফল হবে না, গণতন্ত্রের পক্ষেই সওয়াল শমীক ভট্টাচার্যের

23 Oct 2026
10:07 AM



নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমতকে উত্তেজিত করার মাধ্যমে গোটা আইনি ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে জনতার উন্মত্ততাকে প্রতিষ্ঠা করার যে কোনও প্রচেষ্টা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল আইন, সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা। কোনও নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে মতবিরোধ তৈরি হলে তার সমাধান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। কিন্তু সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা ছড়ানো কিংবা আইনি ব্যবস্থার কর্তৃত্বকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সামাজিক অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্নটি। তাঁর অভিযোগ, একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়কে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং আইনি ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান বিষয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু সেই বিতর্কের পরিসর যেন আইন ও সংবিধানের প্রতি আস্থাকে দুর্বল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান বজায় রাখাও গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।

তাঁর বক্তব্যের মূল সুর হলো, কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে জনতার আবেগকে এমনভাবে পরিচালিত করা উচিত নয়, যাতে যুক্তি, আইন এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিবর্তে উত্তেজনা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে।

গণতন্ত্রের পরিবর্তে জনতার উন্মত্ততা প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন, রাজনৈতিক বিতর্ক, জনমত গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু জনমত এবং মুহূর্তের উত্তেজনায় তৈরি হওয়া জনতার প্রতিক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে সেই পার্থক্যের বিষয়টিই সামনে এসেছে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে জনতার উন্মত্ততাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা কোনওভাবেই দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে পারে না। কারণ গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের প্রকাশ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং সংবিধান নির্ধারিত নিয়মকানুন।

যে কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার সমাধানের জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে। সেই পথ অনুসরণ করার পরিবর্তে সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ

নিজের বক্তব্যে শমীক ভট্টাচার্য অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক মেরুকরণের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ভারতেও অনুরূপ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে তুলনা করতে গেলে প্রতিটি দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ দেশভেদে আলাদা হতে পারে। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার মূল্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য, পরিস্থিতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, রাজনৈতিক বিরোধ বা সামাজিক উত্তেজনা যেন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল না করে। গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করে শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপর নয়, বরং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি সম্মান এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতির উপরেও।

আইনের শাসনই গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি

গণতন্ত্রে আইনের শাসন একটি মৌলিক নীতি। এর অর্থ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই আইন প্রযোজ্য হবে এবং কোনও বিরোধের নিষ্পত্তি প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। এই ব্যবস্থার প্রতি আস্থা দুর্বল হলে সামাজিক সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা, আইনি প্রতিকার চাওয়া এবং শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ করার অধিকারও গণতান্ত্রিক সমাজে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা—দুটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখলে স্পষ্ট হয়, তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা বজায় রাখা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছেন।

গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না

বক্তব্যের শেষাংশে শমীক ভট্টাচার্য দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, গণতন্ত্রকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না। তাঁর মতে, জনতার উন্মত্ততা বা সামাজিক অস্থিরতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের সচেতনতা, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং বিরোধের সমাধানে আইনসম্মত পথ অনুসরণ করা একটি স্থিতিশীল সমাজের জন্য অপরিহার্য।

সব মিলিয়ে, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে সামাজিক অস্থিরতা, আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার প্রশ্নগুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর অবস্থান অনুযায়ী, কোনও পরিস্থিতিতেই জনতার উত্তেজনাকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পথ হলো আইন, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখা।