Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
টেস্টের পর ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটেও কি শেষ জেমস অ্যান্ডারসনের অধ্যায়? ২০২৭-এর পরিকল্পনা থেকে বাদ ল্যাঙ্কাশায়ারের কিংবদন্তি পেসার   •   শুভ বিজয়া, নাকি বিদায়ের বিষাদ? ‘শুভ’ শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে মায়ের চলে যাওয়ার কষ্ট, আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি   •   গুগলের কাছে ট্রাম্পের প্রস্তাব! আটলান্টিক মহাসাগরের নাম ‘ট্রাম্প ওশান’ রাখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট? সুন্দর পিচাইয়ের প্রত্যাখ্যানের দাবি ঘিরে ভাইরাল চর্চা   •   পুজোর আনন্দের মাঝেই আতঙ্ক! পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে পরপর একাধিক বাড়িতে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা   •   দত্তপুকুরে সন্দেহজনক গাড়ি থেকে বিস্ফোরকসদৃশ রাসায়নিক উদ্ধার! ঘটনাস্থলে NIA, STF ও NSG, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন   •   তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘চামপি’! ২০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল, বদল যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের সামরিক মহড়ার সূচিতেও

পুজোর আনন্দের মাঝেই আতঙ্ক! পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে পরপর একাধিক বাড়িতে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা

22 Oct 2026
09:50 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পুজোর আনন্দ, উৎসবের ব্যস্ততা আর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানোর আবহের মধ্যেই চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ছড়াল পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযোগ, এলাকার পরপর একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উৎসবের মরশুমে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। বাড়িঘর ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। কে বা কারা এই চুরির ঘটনায় জড়িত, কী কী সামগ্রী চুরি গিয়েছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে কি না—এখন সেই দিকেই নজর এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পুজোর সময় একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে বহু মানুষ বাড়ির বাইরে সময় কাটান, কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে যান, আবার অনেকে পুজো দেখতে বেরিয়ে পড়েন। এই সময়ে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও চুরির ঘটনাগুলির মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

পরপর বাড়িতে চুরির অভিযোগ, উদ্বেগে বাসিন্দারা

বাঘমুণ্ডি এলাকার একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, একই সময়ে একাধিক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটলে তার পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে তদন্তের আগে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে তদন্ত করা হোক এবং চুরি যাওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করে সেগুলি উদ্ধারের চেষ্টা করা হোক। পাশাপাশি, বাড়িগুলিতে কীভাবে চুরি হয়েছে, দরজা-জানালা ভাঙার কোনও চিহ্ন রয়েছে কি না এবং ঘটনাস্থলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে কি না, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

চুরির ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয় না, বাড়ির নিরাপত্তা নিয়েও মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে বাড়িতে নগদ টাকা, গয়না, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা দীর্ঘদিনের সঞ্চয় রাখা থাকলে চুরির ঘটনা পরিবারের কাছে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উৎসবের মরশুমে বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

পুজোর সময় বহু পরিবার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘোরেন, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যান কিংবা কয়েক দিনের জন্য অন্যত্র থাকেন। এই সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে উৎসবের মরশুমে বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাঘমুণ্ডির ঘটনার পর স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, এলাকায় রাতের টহলদারি যথেষ্ট কি না এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন কি না। তবে বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহলের নির্দিষ্ট সময়সূচি, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন কিংবা নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের কোনও নিশ্চিত বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।

বাসিন্দাদের মতে, পুজোর সময় শুধু বড় রাস্তা বা জনবহুল এলাকার নিরাপত্তা নয়, আবাসিক পাড়া এবং তুলনামূলক নির্জন এলাকাগুলিতেও নজরদারি থাকা দরকার। বিশেষ করে রাতে অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর ব্যবস্থা থাকা উচিত।

চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার হবে কি?

ঘটনাগুলিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার নিয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে প্রথমেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছ থেকে চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের বিস্তারিত তালিকা সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোন বাড়ি থেকে কী কী সামগ্রী উধাও হয়েছে, আনুমানিক মূল্য কত এবং ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন কি না—এই তথ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া আশপাশের বাড়ি বা দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। ঘটনার সময়ের সঙ্গে মিলে যায় এমন কোনও সন্দেহজনক চলাচল, গাড়ির উপস্থিতি কিংবা অন্য কোনও সূত্র তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট সূত্র পাওয়া গিয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

চুরি যাওয়া গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী কোথাও বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সে দিকেও তদন্তে নজর দেওয়া হতে পারে। সব ক্ষেত্রেই প্রমাণ সংগ্রহ এবং তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে এগোনো জরুরি।

পুলিশের তদন্ত ও টহলদারি বাড়ানোর দাবি

চুরির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে। কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে।

এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত টহলদারি, রাতের নজরদারি এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোর দাবি উঠছে। কোনও এলাকায় ধারাবাহিকভাবে চুরির অভিযোগ সামনে এলে ঘটনাগুলির মধ্যে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বাঘমুণ্ডি থানায় এই ঘটনাগুলি নিয়ে কতগুলি অভিযোগ দায়ের হয়েছে, পুলিশ ইতিমধ্যে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করেছে কি না এবং তদন্তের অগ্রগতি কী—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত নির্দিষ্ট দাবি করা যাচ্ছে না।

বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতার বার্তা

চুরির ঘটনার পর বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পুজো বা অন্য কোনও উৎসবে বাড়ি দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকলে দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা, মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখা এবং বিশ্বস্ত প্রতিবেশীকে বিষয়টি জানিয়ে রাখা সহায়ক হতে পারে।

এলাকায় সিসিটিভি থাকলে সেটি সচল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করাও জরুরি। অপরিচিত ব্যক্তির অস্বাভাবিক গতিবিধি নজরে এলে নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া উচিত। কোনও সন্দেহভাজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ বা শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।

তদন্তের দিকেই নজর

পুজোর আনন্দের মধ্যে বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায় একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগ স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাগুলির পিছনে কারা রয়েছে, চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তার উত্তর নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতির উপর।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে পুজোর সময় এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনারও দাবি উঠেছে।

=