Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
অভিনেতা জিতের বাড়িতে নবরাত্রি পুজোয় মাতারাণীর দর্শন, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে শিশু-সহ শতাধিক অসুস্থ! পাঁশকুড়া হাসপাতালে ভর্তি, এক শিশুকে স্থানান্তর তমলুকে   •   সালমান খানই কি প্রথম লক্ষ্য ছিলেন? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন মোড়, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন   •   ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় মল্লযোদ্ধার গর্জন! দ্য গ্রেট গামার অবিশ্বাস্য উত্থানের কাহিনি   •   মার্কো জানসেনকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা, শেষ দিনে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা   •   মার্কো জানসেনের কাছে দলই সবার আগে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে প্রোটিয়াদের জয়ই বড়

আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন: স্বনির্ভরতার নতুন দিশা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

22 Oct 2026
07:11 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  বর্তমান সময়ে কৃষির পাশাপাশি পশুপালন ও পোলট্রি শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি পালন বর্তমানে স্বনির্ভরতা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কম জমিতে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার সুযোগ থাকায় বহু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, বেকার যুবক-যুবতী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা মুরগি পালনের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এই ব্যবসায় সফল হতে হলে শুধু মুরগি কিনে পালন করলেই চলবে না; প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, উন্নত মানের খাদ্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগ প্রতিরোধ এবং সঠিক বাজার পরিকল্পনা।

আধুনিক মুরগি পালনের গুরুত্ব

মুরগি পালন থেকে ডিম ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ডিম ও মুরগির মাংস প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। একই সঙ্গে পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে খাদ্য উৎপাদন, পরিবহণ, ওষুধ সরবরাহ, সরঞ্জাম বিক্রি, ডিম সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্র। ফলে এই শিল্প শুধু খামারির আয়ের পথ তৈরি করে না, বরং পরোক্ষভাবেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে মুরগি পালনের তুলনায় আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগির বাসস্থান, তাপমাত্রা, আলো, খাদ্য, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে উৎপাদনকে আরও পরিকল্পিত করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

মুরগি পালনের বিভিন্ন পদ্ধতি

আধুনিক পোলট্রি ব্যবস্থায় মূলত তিন ধরনের মুরগি পালন বিশেষভাবে প্রচলিত।

১. ব্রয়লার মুরগি পালন: ব্রয়লার মুরগি মূলত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। উন্নত জাতের ব্রয়লার দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হয়। তবে সঠিক সময়ে ওজন অর্জন, মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য খরচ কম রাখার জন্য বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা অপরিহার্য।

২. লেয়ার মুরগি পালন: লেয়ার মুরগি মূলত ডিম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। এ ক্ষেত্রে মুরগির জাত নির্বাচন, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত আলো, ক্যালসিয়াম সরবরাহ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ডিম উৎপাদন শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বজায় রাখতে হলে খামারের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত যত্নসহকারে করতে হয়।

৩. দেশি ও উন্নত দেশি জাতের মুরগি পালন: গ্রামীণ এলাকায় দেশি মুরগির চাহিদা অনেক ক্ষেত্রে ভালো থাকে। উন্নত দেশি বা দ্বৈত-উদ্দেশ্যসম্পন্ন জাত মাংস ও ডিম—উভয় উৎপাদনের জন্য পালন করা যেতে পারে। তবে জাত অনুযায়ী বৃদ্ধি, ডিম উৎপাদন এবং বাজারমূল্যের পার্থক্য থাকে। তাই স্থানীয় চাহিদা ও পালনের পরিবেশ বিবেচনা করে জাত নির্বাচন করা উচিত।

উন্নত খামারঘর নির্মাণ

আধুনিক মুরগি পালনের প্রথম শর্ত হলো উপযুক্ত খামারঘর তৈরি করা। খামারঘর এমন জায়গায় হওয়া দরকার যেখানে সহজে জল জমে না, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এবং পরিষ্কার জল ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘর নির্মাণের সময় সূর্যের তাপ, বৃষ্টির জল, ঠান্ডা বাতাস এবং শিকারি প্রাণীর হাত থেকে মুরগিকে রক্ষা করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ঘরের মেঝে শুকনো ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। মেঝেতে ধানের তুষ বা উপযুক্ত শুকনো বিছানার উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ভেজা বিছানা দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে, কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দুর্গন্ধ, অ্যামোনিয়া গ্যাস এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বড় খামারে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান, কুলিং ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় পানীয় জল সরবরাহ এবং খাদ্য বিতরণের যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। তবে ছোট খামারের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা বাধ্যতামূলক নয়। খামারের আকার, মূলধন এবং উৎপাদনের লক্ষ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

উন্নত জাত নির্বাচন ও বাচ্চা সংগ্রহ

মুরগি পালনে লাভের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করে ভালো মানের বাচ্চা সংগ্রহের উপর। তাই নির্ভরযোগ্য হ্যাচারি বা স্বীকৃত সরবরাহকারীর কাছ থেকে সুস্থ, সক্রিয় এবং উপযুক্ত বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করা উচিত। বাচ্চা কেনার আগে তার জাত, বয়স, টিকাকরণের তথ্য এবং সরবরাহকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্রয়লার পালনের ক্ষেত্রে দ্রুত বৃদ্ধি ও খাদ্য ব্যবহারের দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। লেয়ার পালনের ক্ষেত্রে ডিম উৎপাদন ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন বিবেচনা করতে হয়। দেশি মুরগির ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা ও বাজারের চাহিদা গুরুত্ব পায়।

শুধু কম দামের কারণে নিম্নমানের বাচ্চা কেনা উচিত নয়। অসুস্থ বা দুর্বল বাচ্চা সংগ্রহ করলে পরবর্তী সময়ে মৃত্যুহার, চিকিৎসার খরচ এবং উৎপাদন ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।

সুষম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা

আধুনিক পোলট্রি ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের একটি অংশ। মুরগির বয়স, জাত, শারীরিক বৃদ্ধি এবং উৎপাদনের পর্যায় অনুযায়ী খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ধারণ করতে হয়। সাধারণত খাদ্যে প্রোটিন, শক্তি, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের সঠিক ভারসাম্য থাকা জরুরি।

ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক স্টার্টার, গ্রোয়ার ও ফিনিশার খাদ্য ব্যবহৃত হয়। লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে ডিম উৎপাদনের পর্যায় অনুযায়ী সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম দরকার। খাদ্য প্রস্তুত বা পরিবর্তনের সময় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানীয় জলের নিরবচ্ছিন্ন ব্যবস্থা রাখতে হবে। গরমের সময় মুরগির জল খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই পানির পাত্র বা স্বয়ংক্রিয় ড্রিংকার নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং জল সরবরাহ ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যের অপচয় কমাতে উপযুক্ত ফিডার ব্যবহার করা উচিত। খাদ্য ও জল সরবরাহের পাত্র এমন উচ্চতায় রাখতে হবে যাতে মুরগি সহজে খেতে পারে, অথচ বিছানার উপকরণ দিয়ে সেগুলি অতিরিক্ত নোংরা না হয়।

তাপমাত্রা, আলো ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ

মুরগির বাচ্চা জীবনের প্রথম দিকে বাইরের তাপমাত্রার পরিবর্তনে বেশি সংবেদনশীল থাকে। তাই বাচ্চা আনার আগে ব্রুডিংয়ের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হয়। বাচ্চার বয়স, আচরণ এবং ঘরের পরিবেশ অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বাচ্চারা যদি তাপের উৎসের কাছে গাদাগাদি করে থাকে, তবে তারা ঠান্ডা অনুভব করতে পারে। আবার তাপের উৎস থেকে অতিরিক্ত দূরে সরে গেলে তাপ বেশি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে থাকা এবং সক্রিয় আচরণ সাধারণত আরামদায়ক পরিবেশের লক্ষণ।

খামারে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা দরকার। তবে ছোট বাচ্চার গায়ে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগা এড়াতে হবে। লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে আলো দেওয়ার সময়সূচি ডিম উৎপাদনের উপর প্রভাব ফেলে। তাই ইচ্ছেমতো আলো বাড়ানো বা কমানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট উৎপাদন পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

রোগ প্রতিরোধ ও জৈব নিরাপত্তা

পোলট্রি খামারে রোগ দেখা দিলে অল্প সময়ের মধ্যে বহু মুরগি আক্রান্ত হতে পারে। তাই রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আধুনিক খামারে জৈব নিরাপত্তা বা বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখার মাধ্যমে বাইরের জীবাণুর প্রবেশ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

খামারে প্রবেশের আগে জুতো ও হাত পরিষ্কার করা, বাইরের মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ রাখা, সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা এবং খামারের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। একাধিক বয়সের মুরগি থাকলে তাদের ব্যবস্থাপনা আলাদা রাখা এবং সম্ভব হলে এক ব্যাচের মুরগি সরিয়ে ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে পরবর্তী ব্যাচ তোলা উচিত।

মুরগির রোগ প্রতিরোধে টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন বয়সে কোন টিকা দিতে হবে, তা এলাকার রোগের প্রকোপ, মুরগির ধরন এবং স্থানীয় পশুচিকিৎসকের পরামর্শের উপর নির্ভর করে। নিউক্যাসল রোগ, গামবোরো এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রোগের বিরুদ্ধে উপযুক্ত টিকাকরণ কর্মসূচি তৈরি করা দরকার।

মুরগি হঠাৎ খাবার কম খেলে, ঝিমিয়ে থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে, ডিম উৎপাদন কমে গেলে অথবা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দ্রুত পশুচিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। রোগ নির্ণয় ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পশুচিকিৎসকের নির্দেশনা এবং মাংস ও ডিমের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যাহারকাল মেনে চলা জরুরি।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

বর্তমানে বড় ও মাঝারি আকারের পোলট্রি খামারে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। স্বয়ংক্রিয় ফিডার, নিপল ড্রিংকার, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎচালিত ব্রুডার মুরগির পরিচর্যা সহজ করতে পারে।

কিছু খামারে ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিনের খাদ্য গ্রহণ, জল ব্যবহার, ওজন বৃদ্ধি, ডিম উৎপাদন, মৃত্যুহার এবং চিকিৎসার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন পর্যায়ে খরচ বাড়ছে বা উৎপাদন কমছে তা বোঝা যায়।

ছোট খামারিরাও খাতা, মোবাইল ফোন বা সাধারণ স্প্রেডশিটে দৈনিক হিসাব রাখতে পারেন। এর জন্য ব্যয়বহুল সফটওয়্যার অপরিহার্য নয়। নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ করলে প্রকৃত লাভ-ক্ষতি নির্ণয় করা সহজ হয় এবং ভবিষ্যতের উৎপাদন পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত করা যায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ

মুরগির বিষ্ঠা, ব্যবহৃত বিছানার উপকরণ এবং অন্যান্য বর্জ্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা আধুনিক খামারের অন্যতম দায়িত্ব। অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য জমিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ, মাছি এবং পরিবেশ দূষণের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

উপযুক্ত পদ্ধতিতে মুরগির বিষ্ঠা কম্পোস্ট করে কৃষিজমিতে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। তবে অপরিশোধিত বিষ্ঠা সরাসরি ব্যবহার করলে জীবাণু ও পুষ্টি উপাদানের কারণে পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সঠিক কম্পোস্টিং, জলাশয় থেকে দূরে বর্জ্য সংরক্ষণ এবং মৃত মুরগির নিরাপদ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

খামারের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বৃষ্টির জল যাতে দূষিত বর্জ্যের সংস্পর্শে এসে পুকুর বা জলাশয়ে না মেশে, সে দিকেও নজর দিতে হবে।

খরচ, আয় ও লাভের সম্ভাবনা

মুরগি পালন শুরু করার আগে একটি বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। খামারঘর নির্মাণ, বাচ্চা কেনা, খাদ্য, টিকা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, জল, শ্রমিক, পরিবহণ এবং বাজারজাতকরণ—সব ধরনের খরচ হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

ব্রয়লার খামারের ক্ষেত্রে একটি ব্যাচের মোট ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রির আয়ের তুলনা করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা যায়। লেয়ার খামারের ক্ষেত্রে ডিম বিক্রির আয়ের পাশাপাশি খাদ্য খরচ, ডিমের ভাঙন, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং মুরগি প্রতিস্থাপনের ব্যয় বিবেচনা করতে হয়।

খামারের লাভ নির্ভর করে বাজারদর, খাদ্যের দাম, মুরগির মৃত্যুহার, উৎপাদন দক্ষতা, পরিবহণ ব্যয় এবং বিক্রির ব্যবস্থার উপর। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ব্যবসা শুরু করার আগে স্থানীয় বাজারে ডিম ও মাংসের চাহিদা যাচাই এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার।

প্রথমবার খামার শুরু করলে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, বাজারের নিশ্চয়তা এবং আর্থিক সামর্থ্য তৈরি হলে ধীরে ধীরে খামারের আকার বাড়ানো যায়।

প্রশিক্ষণ, ঋণ ও সরকারি সহায়তার সুযোগ

মুরগি পালনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, পশুপালন দপ্তর, পশুচিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে পোলট্রি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পোলট্রি ও পশুপালন-সম্পর্কিত উদ্যোগের জন্য সময়ে সময়ে সরকারি প্রকল্প, ব্যাংক ঋণ এবং অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকে। তবে সব প্রকল্প সব ধরনের খামারির জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, ব্যাংক বা প্রকল্পের সরকারি নির্দেশিকা থেকে যোগ্যতা, আর্থিক শর্ত এবং আবেদনপদ্ধতি যাচাই করা উচিত।

প্রশিক্ষণ ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে খামার শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ব্যবসার পরিকল্পনা, সম্ভাব্য বাজার, খরচের হিসাব এবং রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা প্রস্তুত করার পর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বাজারজাতকরণে পরিকল্পনার প্রয়োজন

উৎপাদনের পাশাপাশি সঠিক বাজার নির্বাচনও পোলট্রি ব্যবসার সাফল্যের অন্যতম শর্ত। স্থানীয় বাজার, খুচরো বিক্রেতা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী এবং মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা যেতে পারে।

বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বা চাহিদা কমে গেলে বিক্রির দাম কমতে পারে। তাই উৎপাদনের সময়সূচি, সম্ভাব্য বিক্রির তারিখ এবং পরিবহণের ব্যবস্থা আগেই পরিকল্পনা করা দরকার। ডিমের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উপযুক্ত সংরক্ষণ এবং সতর্ক পরিবহণ গুরুত্বপূর্ণ। মাংসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য খাদ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা আবশ্যক।

একই সঙ্গে বিক্রির হিসাব, বকেয়া টাকা এবং দৈনিক খরচ লিখে রাখলে ব্যবসার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।