নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পুজোর মরশুম কাটতেই ফের আবহাওয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা এবং নিম্নচাপের পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী দিনে আবহাওয়ার কেমন পরিবর্তন হতে পারে, বৃষ্টি হবে কি না এবং উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।
বঙ্গোপসাগরে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলেই তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নিম্নচাপ তৈরি হওয়া মানেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, এমনটা নয়। নিম্নচাপের শক্তি, গতিপথ, সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। তাই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নিয়ে কোনও খবর সামনে এলে সরকারি আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে তার প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। আকাশ মেঘলা থাকা, বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি কিংবা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির মতো পরিস্থিতিতে অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, সকলকেই সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ বৃষ্টি হলে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে কলকাতায় ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে বলার জন্য ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, সম্ভাব্য গতিপথ এবং আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা জানা প্রয়োজন। শুধু বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের খবরের ভিত্তিতে কলকাতায় ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া ঠিক নয়।
দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সমুদ্রের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে এই জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত কিংবা সমুদ্র উত্তাল হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, বাতাসের গতিবেগ কত থাকবে এবং কখন থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হবে, তা নির্দিষ্ট পূর্বাভাস ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও বর্ধমানের মতো অপেক্ষাকৃত অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতে সম্ভাব্য প্রভাব নির্ভর করবে আবহাওয়ার ব্যবস্থাটির গতিপথের উপর। ঘূর্ণিঝড় উপকূলের কাছাকাছি এলেই যে সব জেলায় সমানভাবে বৃষ্টি হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের আবহাওয়ার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া অনেক সময় দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় আলাদা থাকে। পাহাড়ি এলাকায় মেঘ, বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, আবার সমতলের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া কোনও আবহাওয়াজনিত ব্যবস্থার প্রভাবে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সেই ব্যবস্থার অবস্থান ও বিস্তারের উপর। তাই উত্তরবঙ্গের সব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে জেলা-ভিত্তিক পূর্বাভাস দেখা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা, সমুদ্রে যাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলা এবং ঝোড়ো হাওয়ার সময় খোলা জায়গায় না থাকার মতো বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়ির আশপাশে থাকা আলগা জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা, জরুরি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং বিদ্যুতের তার বা জল জমে থাকা জায়গা থেকে দূরে থাকাও জরুরি। পরিস্থিতি গুরুতর হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বঙ্গোপসাগরে কোনও ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের ব্যবস্থা বাস্তবে তৈরি হয়েছে কি না, তৈরি হলে তার শক্তি কতটা এবং সেটি কোন দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির জন্য ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়ার কোনও সতর্কতা জারি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সতর্কবার্তা: ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে শিরোনাম বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে আতঙ্কিত হবেন না। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) সর্বশেষ পূর্বাভাস ও সরকারি সতর্কবার্তাকেই গুরুত্ব দিন। নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম, সম্ভাব্য আছড়ে পড়ার সময়, বাতাসের গতিবেগ কিংবা জেলাভিত্তিক বৃষ্টির পরিমাণ নিশ্চিত না করে কোনও তথ্যকে চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।