নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ঢাকের শব্দ, ভক্তদের উপস্থিতি আর বিদায়ের আবেগে বিজয়া দশমীর দিনে উৎসবমুখর পুরান ঢাকা। দুর্গাপুজোর শেষ পর্বে বুড়িগঙ্গা নদীতে শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। একে একে নৌকায় করে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলে আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। উৎসবের এই মুহূর্তে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে নদীপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ। ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে চলছে নজরদারি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিবেশ। কয়েক দিনের পুজো, আনন্দ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর এবার দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর পালা। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের মধ্যে যেমন রয়েছে আবেগ, তেমনই রয়েছে উৎসবের শেষ মুহূর্তকে ঘিরে ব্যস্ততা। নদীর ঘাটে প্রতিমা নিয়ে পৌঁছনো থেকে শুরু করে বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা—সব ক্ষেত্রেই যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব বুধবার জানান, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলেও তিনি জানান।
নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় একসঙ্গে বহু মানুষের উপস্থিতি এবং নৌযানের চলাচল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। সেই কারণে নদীপথে নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোটের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর উদ্যোগের লক্ষ্য হল বিসর্জন চলাকালীন কোনও সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
নৌ পুলিশের এই ব্যবস্থার পাশাপাশি বিসর্জনস্থলে মানুষের চলাচল সুশৃঙ্খল রাখা এবং প্রতিমা বহনকারী নৌযানগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি আব্দুর রবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমার বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছিল। এরপরও বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম চলছিল। একের পর এক প্রতিমা নিয়ে নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে পৌঁছচ্ছেন ভক্তরা।
বিজয়া দশমীর এই আনুষ্ঠানিকতা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব। আনন্দের পাশাপাশি এই সময়ে থাকে আবেগঘন পরিবেশ। পরিবারের সদস্য, পুজো উদ্যোক্তা এবং ভক্তদের অংশগ্রহণে বিসর্জনের মুহূর্ত হয়ে ওঠে উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুধু সদরঘাট এলাকাই নয়, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতেও প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। এই এলাকায় নদীতীরের বিসর্জনস্থলগুলিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিমা নিয়ে আসা যানবাহন এবং বিসর্জন দেখতে আসা মানুষের উপস্থিতির কারণে সড়কে যাতে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে।
প্রতিমা বহনকারী যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। বিসর্জনস্থলের আশপাশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ বিসর্জনের সময় ঘাট সংলগ্ন রাস্তায় ভিড় বাড়লে যানজটের পাশাপাশি মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নদী পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নদীপথে প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং স্থলপথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
দুর্গাপুজো বাঙালি হিন্দু সমাজের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিজয়া দশমীর বিসর্জন সেই উৎসবের সমাপ্তির প্রতীক। পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে প্রতিমা বিসর্জনের এই আয়োজন তাই ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও বহন করে।
তবে উৎসবের এই মুহূর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সতর্কতা অবলম্বন, নৌযানে নিরাপদে যাতায়াত এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে। একইভাবে বিসর্জনস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল সুশৃঙ্খল রাখা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমী উপলক্ষে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে চলছে উৎসবের শেষ পর্ব। নদীপথে নৌ পুলিশের নজরদারি, ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোটের ব্যবহার এবং সড়কে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতার মধ্য দিয়ে বিসর্জন কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।