নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একাংশ চিকিৎসকের সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার দিন সাংবাদিকদের সামনে যাঁরা বক্তব্য রেখেছিলেন, তাঁরা আদৌ কর্তব্যরত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে রিপোর্ট চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ঘটনার পর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসকের সাংবাদিক বৈঠক সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং তাঁরা সেই সময় কর্মরত ছিলেন কি না, তা নিয়েই এবার প্রশাসনিক স্তরে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সাংবাদিকদের সামনে যাঁরা বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাঁদের ছবি দেখে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ডিউটির সময়সূচি খতিয়ে দেখে জানতে হবে, সাংবাদিক বৈঠকের সময় তাঁরা কর্তব্যরত ছিলেন কি না। এই তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি পর্যালোচনা করবে স্বাস্থ্য দফতর।
এই বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে নির্দিষ্ট রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর রিপোর্ট নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরিচয়, তাঁদের ডিউটির সময় এবং সাংবাদিক বৈঠকের সময় তাঁরা সরকারি কর্তব্যে নিযুক্ত ছিলেন কি না—এই বিষয়গুলি রিপোর্টে স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রিপোর্ট প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক কর্তব্যে গাফিলতি করেছেন বা নিয়ম ভেঙেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা যদি তাঁদের নির্ধারিত ডিউটির সময় সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে তা সার্ভিস রুলের পরিপন্থী কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। অর্থাৎ, শুধু সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নয়, সেই সময় তাঁদের সরকারি দায়িত্ব কী ছিল এবং প্রযোজ্য পরিষেবা বিধিতে এ ধরনের কার্যকলাপ সম্পর্কে কী বলা রয়েছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে কর্তব্যরত অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভিস রুল ভঙ্গের শামিল কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট বিধি, পরিস্থিতি এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট সেই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
চোরবাগান পদপিষ্ট-কাণ্ডের পর চিকিৎসকদের সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তির জন্য তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা জরুরি। একদিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে কোনও ঘটনার পর চিকিৎসকদের বক্তব্য বা সাংবাদিকদের সামনে তাঁদের উপস্থিতি বিচার করার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক তথ্য ও বিধি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এখন নজর স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টের দিকে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা ঘটনার দিন ডিউটিতে ছিলেন কি না এবং তাঁদের ভূমিকা প্রযোজ্য পরিষেবা বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা রিপোর্টের পরেই আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চোরবাগান পদপিষ্ট-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছেছে প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর্যায়ে। আগামী ২৮ অক্টোবরের রিপোর্টে কী তথ্য উঠে আসে এবং তার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।