নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে আপাতত স্বস্তির আবহাওয়া থাকলেও বঙ্গোপসাগরের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক নজর রাখছেন আবহবিদরা। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপ পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তিশালী হবে এবং তার গতিপথ কোন দিকে থাকবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) ২১ অক্টোবরের সামুদ্রিক আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, থাইল্যান্ড ও সংলগ্ন অঞ্চলের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি উত্তর আন্দামান সাগরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ২৩ অক্টোবর নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে শক্তি বাড়াতে পারে।
বাংলার আবহাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা, মৎস্যজীবী এবং যাঁরা উৎসব উপলক্ষে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সম্ভাব্য নিম্নচাপ তৈরি হওয়া মানেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হবে, এমনটা নয়। নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধি, সমুদ্রের পরিস্থিতি, বাতাসের গতিপ্রকৃতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত বিষয়ের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।
সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে অক্টোবরের ২৭ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু এই সময়সীমাকে নিশ্চিত ল্যান্ডফলের পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমানে উপলব্ধ সরকারি তথ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ওই নির্দিষ্ট সময়ে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে শক্তিশালী হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার উপর তার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখতে হবে। তবে কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে, কোথায় ঝোড়ো হাওয়া বইবে কিংবা সমুদ্র কতটা উত্তাল হবে, তা পরবর্তী বুলেটিনের উপর নির্ভর করবে।
সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও উচিত নয়। আবহাওয়া দফতরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করা এবং সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলাই হবে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।