নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মহিলা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কৃত হলেন ভারতের ওপেনার শেফালি বর্মা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে লেভেল ১-এর আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। আইসিসির ২০ অক্টোবরের সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৮ অক্টোবর রায়পুরে ভারত ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১২তম ওভারে। ভারতের বোলার শ্রী চরানির বলে মিড-অফ অঞ্চলে চিপো মুগেরি-তিরিপানোর ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন শেফালি। ক্যাচটি হাতছাড়া হওয়ার পর হতাশা ও বিরক্তির বশে তিনি বলটি জোরে মাটিতে ছুড়ে মারেন।
মাঠে তাঁর এই আচরণকে ক্রিকেটের সরঞ্জামের অনুপযুক্ত ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করে আইসিসি। খেলোয়াড় ও খেলোয়াড়দের সহায়ক কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধির ২.২ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেটের সরঞ্জাম, পোশাক কিংবা মাঠের সরঞ্জাম ও পরিকাঠামোর অপব্যবহার সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।
আইসিসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেফালি বর্মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করার পাশাপাশি তাঁর শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই তাঁর প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ার ঘটনা।
এমিরেটস আইসিসি আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারিদের প্যানেলের সদস্য জি এস লক্ষ্মী এই শাস্তির প্রস্তাব দেন। শেফালি নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। মাঠের আম্পায়ার বৃন্দা রাঠি ও গায়ত্রী ভেঙ্কটগোপালন, তৃতীয় আম্পায়ার আনা হ্যারিস এবং চতুর্থ আম্পায়ার জননী নারায়ণন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, লেভেল ১-এর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার থেকে শুরু করে ম্যাচ ফি-র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জরিমানা এবং এক বা দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া যেতে পারে।
কোনও খেলোয়াড় ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে সেগুলি সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হতে পারে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে ম্যাচ থেকে নির্বাসনের মুখেও পড়তে হতে পারে।
মজার বিষয়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাটি ঘটলেও ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন শেফালি। জিম্বাবুয়ের করা ১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ভারতীয় অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা ২৫ বলে অপরাজিত ৪৭ রান করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন।
ভারত মাত্র ৮.৫ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ফলে নয় উইকেটে জয়ের পাশাপাশি তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিশ্চিত করে ভারতীয় মহিলা দল।
সব মিলিয়ে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেফালি বর্মার জন্য দিনটি ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। একদিকে ক্যাচ ফসকে যাওয়ার পর তাঁর আচরণের জন্য আইসিসির শাস্তি, অন্যদিকে ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানো ইনিংস। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের আচরণ ও শৃঙ্খলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।