নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: চোরবাগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ছুটি বাতিল, নতুন নির্দেশিকা জারি এবং কড়া পদক্ষেপের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, বিপর্যয় এড়াতে কেন আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না, সেই প্রশ্নই সামনে আনলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উৎসবের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্যান্ডেল তৈরির অনুমতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্য, “দুর্ঘটনা ঘটার পর নির্দেশিকা নয়, আগে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?” তাঁর মতে, বড় কোনও বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও, তার আগে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ছুটি বাতিল, নতুন নির্দেশিকা এবং কড়া পদক্ষেপের বিষয়গুলি মেনে নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার বড় বিপদের পরেই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ে।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে প্যান্ডেল তৈরির অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিকাঠামো যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। যে রাস্তায় পুজোর প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে, সেই রাস্তার প্রস্থ কতটা, সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলি আগে থেকেই বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে তাঁর বক্তব্য।
পুজোর সময় কোনও মণ্ডপে কত মানুষের সমাগম হতে পারে, অর্থাৎ সম্ভাব্য ফুটফল কতটা হতে পারে, তা অনুমতির আগে মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, সম্ভাব্য ভিড়ের পরিমাণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, যান চলাচল এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা সম্পর্কে আগাম পরিকল্পনা থাকলে বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বড় জনসমাগমে দুর্ঘটনা এড়াতে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে এ ধরনের বিপর্যয়ের নজির থাকা সত্ত্বেও কেন আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলো না, তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।
উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, জরুরি নির্গমন পথ এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অভিযোগ, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রশাসনের দূরদর্শিতা ও সদিচ্ছার অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, অনুমোদন সংক্রান্ত নথি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
চোরবাগানের ঘটনা ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন—উৎসবের আনন্দে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো যথাযথ পরিকল্পনা কি আগে থেকেই করা হয়েছিল? প্যান্ডেলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা চিহ্নিত করার জন্য কী ব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।