নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন এলাকার গোসাবায় ফের নদীবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিল। গোসাবা থানার অন্তর্গত গোসাবা গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনারগাঁও এলাকায় দুর্গা দেওয়ানী নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ নদীগর্ভে ধসে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ আচমকা এই ধসের ঘটনা ঘটে। বাঁধের বড় অংশ ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। নদীর জল লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ এবং বসতবাড়ির নিরাপত্তা অনেকাংশেই নদীবাঁধের উপর নির্ভরশীল। ফলে নদীবাঁধের কোনও অংশে ভাঙন দেখা দিলে তা শুধু একটি নির্মাণগত সমস্যা হয়ে থাকে না, বরং সম্ভাব্য প্লাবন এবং জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি করে। সোনারগাঁওয়ে দুর্গা দেওয়ানী নদীর বাঁধে এই ধসের ঘটনায় সেই উদ্বেগই আরও একবার সামনে এল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ দুর্গা দেওয়ানী নদীর বাঁধের প্রায় দেড়শো ফুট অংশ ভেঙে নদীর মধ্যে চলে যায়। আচমকা বাঁধের এই অংশ ধসে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নদীর জল বাঁধ পেরিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়লে বসতবাড়ি, চাষের জমি এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
নদীবাঁধের উপর নির্ভরশীল সুন্দরবনের মানুষের কাছে এমন ঘটনা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশেষত নদীর জল বাড়লে কিংবা জোয়ারের সময় বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত মেরামতির কাজ সম্পন্ন করে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোনও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না কিংবা কেউ আহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাঁধ ধসের খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সেচ দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। নদীর জল যাতে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভাঙনস্থল চিহ্নিত করে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা এবং নদীর জল যাতে গ্রামের দিকে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
সুন্দরবনের মতো নদীবেষ্টিত এলাকায় বাঁধের কোনও অংশ দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময়মতো মেরামতির কাজ না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই সোনারগাঁওয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেচ দপ্তর এবং স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের যৌথ উদ্যোগে বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষও এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত করে নদীর জল আটকানো এবং সম্ভাব্য প্লাবন রুখতে জোরকদমে কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত করার পাশাপাশি আশপাশের দুর্বল অংশগুলির অবস্থার উপর নজর রাখাও জরুরি। একটি অংশে ধস দেখা দিলে সংলগ্ন অংশের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে মেরামতির কাজ কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে এবং বাঁধের স্থায়ী সংস্কারের জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য সামনে এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলে নদীভাঙন এবং নদীবাঁধের দুর্বলতা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়। নদীর স্রোত, জোয়ারের প্রভাব, মাটির ক্ষয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সময়ে বাঁধের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির কাছে বাঁধের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জীবিকা অনেক ক্ষেত্রেই কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল। ফলে নদীর জল লোকালয়ে ঢুকে পড়লে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হতে পারে।
সোনারগাঁওয়ের ঘটনায় তাই আপৎকালীন মেরামতির পাশাপাশি বাঁধের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দুর্গা দেওয়ানী নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ধসে পড়ার পর সোনারগাঁওয়ের বাসিন্দারা এখন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। দ্রুত মেরামতির কাজ শেষ করে এলাকাকে সম্ভাব্য প্লাবনের আশঙ্কা থেকে নিরাপদ রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন, কত দ্রুত বাঁধের ভাঙা অংশ সম্পূর্ণ মেরামত করা সম্ভব হবে এবং আগামী দিনে নদীভাঙনের আশঙ্কা ঠেকাতে কী স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত সেচ দপ্তর, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।