Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না স্নেহার, শোকে পাথর বিষ্ণুপুরের এগারো গ্রাম   •   উৎসবের ভিড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার দাবি, সতর্কবার্তা দিলীপ ঘোষের   •   সল্টলেকের এফ ডি ব্লকের পুজো মণ্ডপে ‘শ্বেতকালী ২’-এর প্রচার, অনিন্দ্য ও পরিচালকের বক্তব্য ঘিরে আগ্রহ   •   পুজোর আনন্দে সাময়িক বাধা বৃষ্টি! হাওড়া, হুগলি, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত   •   ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু, পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে মুখোমুখি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড   •   ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পারফরম্যান্সে খুশি ড্যারেন স্যামি, বললেন ‘বড় পদক্ষেপ’ এগোল দল

চোরবাগান দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর

18 Oct 2026
08:51 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল। পর্যাপ্ত সতর্কতা, সুরক্ষা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে এমন মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত কি না, সেই প্রশ্নই সামনে এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চোরবাগানের দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু গলির মধ্যে কীভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দমকল বিভাগ এবং কলকাতা পৌরনিগমের অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

প্রশাসনিক অনুমতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, যে পুজোকে ঘিরে বিপুল প্রচার এবং একাধিক সরকারি পুরস্কারের বিষয় রয়েছে, সেখানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাঁর মতে, বড় পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর জন্য আগাম পরিকল্পনা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করার মতো প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তাঁর অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর দায় এড়ানোর চেষ্টা না করে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আনা উচিত। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ভূমিকা, অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে গৃহীত পদক্ষেপ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

‘তদন্তের নামে প্রহসন নয়, চাই নিরপেক্ষ তদন্ত’

এই ঘটনায় দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার উপর জোর দিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের নামে যেন দায় অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না হয়। বরং কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, কোথায় নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

তাঁর মতে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও পুজোমণ্ডপে এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলি যাতে এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি।

দুর্গাপুজো বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই উৎসবের সময় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনওরকম অবহেলা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। চোরবাগানের দুর্ঘটনা সেই নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, চোরবাগান দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ, দমকল ও পৌরনিগমের অনুমতি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। তবে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে তদন্তের ফলাফল ও প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।