নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ত্বকে হঠাৎ ছোট ছোট লাল, বাদামি বা বেগুনি বিন্দুর মতো দাগ দেখা দিলে অনেকেই সেগুলিকে সাধারণ র্যাশ বা অ্যালার্জি বলে মনে করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই দাগগুলি হতে পারে পেটেকিয়া (Petechiae)—ত্বকের নিচে ক্ষুদ্র রক্তনালি থেকে রক্ত বেরিয়ে জমা হওয়ার ফলে তৈরি হওয়া ছোট ছোট দাগ। কখনও জোরে কাশি, বমি বা অতিরিক্ত চাপের কারণে এমন দাগ দেখা দিতে পারে। আবার কখনও রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনও গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
তাই পেটেকিয়া দেখতে কেমন, সাধারণ ত্বকের র্যাশ থেকে এটি কীভাবে আলাদা এবং কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন—সেই বিষয়গুলি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পেটেকিয়া সাধারণত সূচের ডগার মতো ছোট, গোলাকার দাগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলির ব্যাস প্রায় ২ মিলিমিটারের কম হয়। ত্বকের রং অনুযায়ী দাগগুলি লাল, লালচে-বেগুনি, বাদামি বা গাঢ় বেগুনি দেখাতে পারে।
পেটেকিয়ার কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো:
দাগগুলি খুব ছোট এবং অনেক সময় একসঙ্গে গুচ্ছাকারে দেখা যায়।
সাধারণত ত্বকের উপরিভাগ থেকে উঁচু হয়ে থাকে না।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুলকানি বা ব্যথা থাকে না।
আঙুল দিয়ে চাপ দিলে দাগের রং সাধারণত ফিকে হয়ে যায় না।
পা, হাত, পেট, মুখের আশপাশ এবং কখনও মুখের ভেতর বা চোখের পাতার ভেতরেও দেখা যেতে পারে।
ত্বকের গাঢ় রঙের মানুষের ক্ষেত্রে পেটেকিয়া চেনা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তাই শুধু রং নয়, দাগের আকার, অবস্থান, সংখ্যা এবং সঙ্গে অন্য কোনও উপসর্গ রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। <Cite refs={["turn404019search0","turn404019search1","turn404019search2"]}/>
আমাদের ত্বকের নিচে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি রয়েছে, যেগুলিকে কৈশিক রক্তনালি বা ক্যাপিলারি বলা হয়। এই রক্তনালির দেওয়াল থেকে অল্প পরিমাণ রক্ত আশপাশের টিস্যুতে বেরিয়ে এলে ত্বকে ছোট ছোট বিন্দুর মতো দাগ তৈরি হতে পারে। এই দাগগুলিকেই পেটেকিয়া বলা হয়।
এর কারণ সব সময় গুরুতর হয় না। তবে কারণ বুঝতে হলে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ইতিহাস এবং অন্য উপসর্গগুলি বিবেচনা করা জরুরি।
১. অতিরিক্ত কাশি বা বমি: দীর্ঘক্ষণ জোরে কাশি, বমি বা অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার ফলে বিশেষত মুখ, চোখের আশপাশ, ঘাড় ও বুকের উপরের অংশে পেটেকিয়া দেখা দিতে পারে।
২. আঘাত বা ঘর্ষণ: ত্বকে চাপ, আঘাত কিংবা ঘর্ষণের কারণেও ক্ষুদ্র রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩. কিছু ওষুধের প্রভাব: নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া বা প্লেটলেটের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ত্বকে রক্তক্ষরণের মতো দাগ দেখা দিতে পারে।
৪. সংক্রমণ: কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের সঙ্গে পেটেকিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। জ্বরের সঙ্গে নতুন করে এই দাগ দেখা দিলে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
৫. রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া: প্লেটলেট রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এর সংখ্যা কমে গেলে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ, সহজে কালশিটে পড়া, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৬. অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: কিছু ক্ষেত্রে রক্তনালির প্রদাহ, ভিটামিন সি-এর ঘাটতি, ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (ITP) কিংবা লিউকেমিয়ার মতো রোগের সঙ্গেও পেটেকিয়া দেখা যায়। তবে শুধু এই দাগ দেখে কোনও নির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা যায় না। <Cite refs={["turn404019search0","turn404019search1","turn404019search3"]}/>