নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ, দেশপ্রেম, যুবসমাজের কর্মপ্রেরণা এবং মানবসেবার বার্তাকে সামনে রেখে বাসন্তী বিধানসভার ঝড়খালীর ত্রিদিব নগরে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি উন্মোচন করা হল। বিবেকানন্দ সেবা সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের উদ্যোক্তা ও সদস্যরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবা করা এবং সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
এই মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সর্দার, গণেশ গিরি, মণ্ডলের সহ-সভাপতি সুব্রত গায়েন এবং বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি উৎপল দত্ত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সকলের উপস্থিতিতে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়।
বিবেকানন্দ সেবা সংঘ ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দুস্থ মানুষের জন্য কাজ করা। শুধুমাত্র একটি ক্লাব পরিচালনা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখে যুবসমাজকে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও এই উদ্যোগের অন্যতম দিক।
স্বামী বিবেকানন্দের জীবনদর্শন যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসী, কর্মঠ ও মানবিক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের জন্য কাজ করা এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত শ্রদ্ধার্ঘ্য বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।
এই ভাবনাকে সামনে রেখেই ঝড়খালীর ত্রিদিব নগরে বিবেকানন্দ সেবা সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপন ও উন্মোচনের আয়োজন করা হয়। উদ্যোক্তাদের আশা, এই মূর্তি আগামী দিনে এলাকার যুবসমাজকে ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করবে এবং সমাজসেবার প্রতি তাঁদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি যুব মোর্চার জেলা সভাপতি উৎপল দত্ত এলাকার যুবকদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এলাকার যুবসমাজ যেভাবে বিভিন্ন কর্মযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে এবং দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে, তা অত্যন্ত আনন্দদায়ক। যুবকদের এই উদ্যোগ সমাজের পক্ষে ইতিবাচক বলেও তিনি মনে করেন।
উৎপল দত্তের বক্তব্য, এলাকার যুবকরা মানুষের পাশে থেকে যেভাবে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে চলেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য। তাঁদের এই উদ্যোগকে তিনি বরাবরই সমর্থন করে এসেছেন এবং আগামী দিনেও তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
তাঁর মতে, সমাজের উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবকেরা যদি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন, তাহলে সমাজের বহু সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সর্দারও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও জীবনদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বামী বিবেকানন্দের বাণী যুবসমাজকে কর্মপ্রেরণা, অনুপ্রেরণা ও দেশপ্রেমের শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে মানবসমাজকে নৈতিকতার পথে এগিয়ে চলার দিশা দেখায় তাঁর আদর্শ।
প্রদীপ সর্দার জানান, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সামনে রেখেই বিবেকানন্দ সেবা সংঘ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। যাঁরা সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করেন, তাঁদের পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের সহযোগিতা করার বার্তাও দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মানবসেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে পথ স্বামী বিবেকানন্দ দেখিয়েছেন, সেই পথেই এগিয়ে চলা উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলতে তাঁর আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান সময়ে সমাজের উন্নয়নে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে যুবকদের অংশগ্রহণ যেমন মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করে, তেমনই নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার পথও দেখায়। বিবেকানন্দ সেবা সংঘ ক্লাবের এই উদ্যোগ সেই বার্তাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তারা তাঁর আদর্শকে স্মরণ করার পাশাপাশি মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের কাজে আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন এবং যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখাই তাঁদের লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, বাসন্তী বিধানসভার ঝড়খালীর ত্রিদিব নগরে বিবেকানন্দ সেবা সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান শুধু একটি স্মরণীয় আয়োজন নয়, বরং মানবসেবা, দেশপ্রেম ও যুবসমাজের কর্মপ্রেরণার বার্তাও বহন করল। উদ্যোক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এল মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার।