Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
গঙ্গাসাগরে ৫০ হাজার টাকা তোলাবাজির অভিযোগ বিজেপি নেতা উত্তম মাইতির বিরুদ্ধে, লিখিত অভিযোগের পর আটক   •   দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, সমাজমাধ্যমের পোস্টে বিতর্ক ও বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন   •   গকেবেরহা টেস্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে বদলের ইঙ্গিত শুকরি কনরাডের, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রোটিয়ারা   •   বাসন্তীর নফরগঞ্জে বেহাল আইসিডিএস কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ, পঞ্চমীর প্রাক্কালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন   •   দুর্গাপুজো শুধু আনন্দের নয়, জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকারও: রক্তদানের বার্তা ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার   •   সল্টলেক সেক্টর V-এ মহিষবাথান নারী শক্তির দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা, উপস্থিত ড. শরদ্বত মুখোপাধ্যায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, সমাজমাধ্যমের পোস্টে বিতর্ক ও বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন

15 Oct 2026
12:41 PM



সম্পাদকের কলমে : দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সক্রিয়তা, সংগঠনের পরিচয়কে ঘিরে রাজনৈতিক দাবি এবং বিজেপির অন্দরে পুরনো ও নতুন কর্মীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন। আরএসএস, হিন্দু সংহতি, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠনের নাম ঘিরে সমাজমাধ্যমে নানা বক্তব্য ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে ক্যানিং বিধানসভা এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমাজমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

পোস্টটিতে হিন্দু সংহতির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, বিধায়ক এবং শাহাজান শেখ মোল্লার ছেলেদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নাম ব্যবহার করে তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছেন। পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, হিন্দু সংহতির সক্রিয়তার কারণে গরু পাচারের মতো কার্যকলাপ বাধার মুখে পড়ছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। 

সংগঠনের পরিচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য এবং নতুন করে সক্রিয়তার প্রশ্ন

রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয় ও সক্রিয়তা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির উপস্থিতি, তাদের পুরনো কার্যকলাপ এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলছে।

সমালোচকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংগঠনগুলির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পরে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নতুন করে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে চাইছেন। কারও মাথায় তিলক, কারও কপালে গেরুয়া চিহ্ন, আবার কারও বক্তব্যে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজের দাবি—এসবের মধ্যেই কে প্রকৃত অর্থে সংগঠনের আদর্শে বিশ্বাসী আর কে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচয় সামনে আনছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। কোনও সংগঠনের নাম বা পরিচয় প্রকাশ্যে আসা মানেই সেই সংগঠন নতুন করে তৈরি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। একইভাবে, কোনও ব্যক্তি দীর্ঘদিন সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না বলেই তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল না, এমন দাবিও প্রমাণ ছাড়া করা যায় না। সংগঠনের কাজের ইতিহাস, সদস্যদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এই বিতর্কের বিচার হওয়া উচিত।

মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে ঘিরে পোস্ট: অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও স্বচ্ছতার দাবি

ক্যানিং বিধানসভা এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত যে পোস্টটি ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেখানে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে আক্রমণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি। পাশাপাশি, হিন্দু সংহতির সাংগঠনিক পরিচয় এবং তাঁর ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—সমাজমাধ্যমে কোনও অভিযোগ প্রকাশিত হলেই তা প্রমাণিত হয়ে যায় না। কে পোস্টটি করেছেন, অভিযোগের পক্ষে কী তথ্য রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধায়ক বা অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য কী এবং মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল নিজে কী জানিয়েছেন—এসব বিষয় সামনে না এলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।

কাউকে খুনের পরিকল্পনা বা হামলার সঙ্গে যুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত চূড়ান্ত বিবেচনার ভিত্তি। রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে কাউকে দোষী কিংবা নির্দোষ ঘোষণা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়।

পুরনো বিজেপি বনাম নব্য বিজেপি: দলের অন্দরে কি বাড়ছে অসন্তোষ?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির অন্দরে পুরনো কর্মী ও নতুন করে দলে সক্রিয় হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগও সামনে আসছে। দলের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করা কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিছু ব্যক্তি দ্রুত সাংগঠনিক পদ বা রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়ে যাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি।

এই অসন্তোষের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক আনুগত্য এবং ভবিষ্যতে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা থাকবেন, সেই প্রশ্ন। কোনও দল যখন রাজনৈতিকভাবে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন সংগঠন সম্প্রসারণের জন্য নতুন মানুষকে যুক্ত করা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় পুরনো কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে অবহেলা করা হলে দলের ভিতরে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

আবার নতুন করে দলে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখাও যুক্তিসংগত নয়। কেউ আগে অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী থাকলেও পরবর্তীকালে কোনও দলের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখে যোগ দিতে পারেন। আসল বিবেচ্য হওয়া উচিত তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক কাজ, জনসংযোগ এবং দলের প্রতি দায়বদ্ধতা।

নাম করে পদ পাওয়ার প্রবণতা—রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাজ্য কমিটির এক সদস্যের বক্তব্য বলে যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে কিছু মানুষের মধ্যে পরিচিতি তৈরি করে সাংগঠনিক পদ পাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরার মাধ্যমে কেউ কেউ রাজনৈতিক মহলে পরিচিত হতে চাইছেন।

তাঁর আরও বক্তব্য, প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় কেবল পদ বা প্রকাশ্য উপস্থিতিতে নির্ধারিত হয় না। অনেক কর্মী প্রচারের আলোয় না থেকেও সংগঠনের জন্য কাজ করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন। দলের প্রতি তাঁদের নিষ্ঠা, ধারাবাহিকতা ও কাজের মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।

এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, যে কোনও সংগঠনে পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা যদি কাজের চেয়ে প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে সাংগঠনিক ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকা বা সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরাকে এককভাবে পদলোভের প্রমাণ বলাও ঠিক নয়। অভিযোগের যথার্থতা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণের উপর।

পৌরসভা নির্বাচন ও কমিটি পুনর্গঠন: বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সভাপতি পরিবর্তন এবং নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, স্থানীয় নেতৃত্ব বেছে নেওয়া এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক পদ নিয়ে প্রত্যাশা বাড়তে পারে। দীর্ঘদিনের কর্মীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি চাইবেন, নতুন কর্মীরা দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ খুঁজবেন, আর নেতৃত্বকে দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যদি এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নিয়ম, যোগ্যতা এবং সাংগঠনিক কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে দলের ভিত মজবুত হতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই সভাপতি পরিবর্তন বা কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে শুধু পরিচিতি কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাজ, জনভিত্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের সমস্যার পাশে থাকার ইতিহাসকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নেতৃত্ব কি পদে, নাকি কাজে?

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্ন—নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় কী? কোনও পদে থাকা, প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া কিংবা সমাজমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি কি নেতৃত্বের একমাত্র মাপকাঠি? নাকি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কঠিন সময়ে কর্মীদের সঙ্গে থাকা এবং সংগঠনের নীতি বাস্তবে কার্যকর করার মধ্যেই নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে?

বাস্তবে নেতৃত্বের মূল্যায়ন একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। পদ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু শুধু পদ থাকলেই জনসমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয় না। একইভাবে, প্রচারের বাইরে থেকে কাজ করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত নেতা হয়ে যান না। তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা, সততা, মানুষের আস্থা এবং দায়িত্ব পালনের প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক দলের উচিত, কর্মীদের মধ্যে কে কতটা প্রচার পাচ্ছেন তার বদলে কে কতটা কাজ করছেন, সেই মূল্যায়নের ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে যেমন পুরনো কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে, তেমনই নতুন কর্মীদের জন্যও যোগ্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অভিযোগ নয়, প্রমাণই হোক শেষ কথা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয়তা, মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে ঘিরে সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং বিজেপির অন্দরে পুরনো-নতুন কর্মীদের অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা, নেতৃত্বের মানদণ্ড এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রস্তুতি।

তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া উচিত। আবার কারও দীর্ঘদিনের কাজকে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অস্বীকার করাও উচিত নয়।

রাজনৈতিক দলগুলির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—প্রচার ও বাস্তব কাজের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করা, সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কর্মীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। কারণ, নির্বাচনের সময় শুধু পরিচিত মুখ বা সমাজমাধ্যমের প্রচার নয়, মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্য কাজই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শেষ কথা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত তথ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্যের ভিত্তিতে। কে পুরনো, কে নতুন, কে কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত—এসব প্রশ্নের উত্তর যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে দেখা। দলের প্রতি আনুগত্যের প্রকৃত মূল্যায়ন হোক কাজের ভিত্তিতে, আর রাজনৈতিক অভিযোগের বিচার হোক প্রমাণের ভিত্তিতে—গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে এটাই হওয়া উচিত মূল বার্তা।