Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
গঙ্গাসাগরে ৫০ হাজার টাকা তোলাবাজির অভিযোগ বিজেপি নেতা উত্তম মাইতির বিরুদ্ধে, লিখিত অভিযোগের পর আটক   •   দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, সমাজমাধ্যমের পোস্টে বিতর্ক ও বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন   •   গকেবেরহা টেস্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে বদলের ইঙ্গিত শুকরি কনরাডের, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রোটিয়ারা   •   বাসন্তীর নফরগঞ্জে বেহাল আইসিডিএস কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ, পঞ্চমীর প্রাক্কালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন   •   দুর্গাপুজো শুধু আনন্দের নয়, জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকারও: রক্তদানের বার্তা ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার   •   সল্টলেক সেক্টর V-এ মহিষবাথান নারী শক্তির দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা, উপস্থিত ড. শরদ্বত মুখোপাধ্যায়

বাসন্তীর নফরগঞ্জে বেহাল আইসিডিএস কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ, পঞ্চমীর প্রাক্কালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

15 Oct 2026
12:17 PM



নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা আইসিডিএস কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হল বাসন্তী বিধানসভা এলাকার নফরগঞ্জে। বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগ ও আর্থিক সহযোগিতায় নফরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৪৯ নম্বর বুথের ১৪৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি অকেজো ও বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকার শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের পরিষেবা পেতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। সেই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর প্রাক্কালে এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় স্তরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের পুষ্টি, প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা আরও ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়েছিল কেন্দ্রটি

নফরগঞ্জ এলাকার ২৪৯ নম্বর বুথে অবস্থিত ১৪৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রটির পরিকাঠামো ঠিকঠাক না থাকায় প্রত্যন্ত গ্রামের শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের পরিষেবা গ্রহণে অসুবিধা হচ্ছিল।

আইসিডিএস কেন্দ্রগুলি গ্রামীণ এলাকার শিশুদের পুষ্টি, প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলির কাছে এই কেন্দ্রগুলির গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই কোনও কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে শিশুদের নিয়মিত পরিষেবা গ্রহণ এবং গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টিসহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে।

স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, এই সমস্যার কথা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরছিলেন। অবশেষে কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

৫২ জন শিশু ও ১১ জন গর্ভবতী মহিলা পান পরিষেবা

স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৪৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫২ জন শিশু এবং ১১ জন গর্ভবতী মহিলা। কেন্দ্রটিতে একজন শিক্ষিকা ও একজন সহায়িকা রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি ও খাবারসংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়া হয়। গর্ভবতী মহিলারাও এই পরিষেবার আওতায় রয়েছেন।

প্রত্যন্ত গ্রামের এই পরিবারগুলির কাছে আইসিডিএস কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শৈশবের প্রাথমিক পর্যায়ে পুষ্টি ও শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সেই কারণেই কেন্দ্রটির বেহাল দশা কাটিয়ে একটি কার্যকর ও উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট শিশু ও মহিলাদের পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

প্রদীপ সরদারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইসিডিএস কেন্দ্রটির সমস্যার কথা তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সরদারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের রামকৃষ্ণবাবুর কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি।

এলাকার মানুষের বক্তব্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই ধরনের পরিষেবা কেন্দ্রের পরিকাঠামো ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় তাঁদের দৈনন্দিন পরিষেবা গ্রহণে সমস্যা হচ্ছিল। তাই দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি উঠেছিল।

বাসিন্দাদের সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় বলে জানানো হয়েছে। এরপর বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগ ও আর্থিক সহযোগিতায় কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

পঞ্চমীর প্রাক্কালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর প্রাক্কালে ১৪৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই কর্মসূচিতে বাসন্তী বিধানসভার কনভেনার প্রদীপ সরদার, অঞ্চলের সহ-সভাপতি গণেশ গিরি, সুব্রত গায়েন এবং জিএস-সহ সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানের কথা জানানো হয়েছে।

বাসন্তী পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগ এবং আর্থিক সহযোগিতায় কেন্দ্রটিকে স্থায়ী ও উন্নত পরিকাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিশুদের পড়াশোনা, পুষ্টি পরিষেবা এবং গর্ভবতী মহিলাদের সহায়তা প্রদানের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই শেষ কথা নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পরিষেবা চালু রাখাই হবে এই উদ্যোগের সাফল্যের মূল মাপকাঠি।

গ্রামীণ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যে আইসিডিএস কেন্দ্রের গুরুত্ব

আইসিডিএস কেন্দ্রগুলি গ্রামীণ সমাজে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ছোট শিশুদের পুষ্টি, প্রাথমিক শিক্ষার প্রস্তুতি এবং মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসংক্রান্ত সচেতনতা তৈরিতে এই কেন্দ্রগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির কাছে এই পরিষেবাগুলি সহজলভ্য হওয়া দরকার। পরিকাঠামোর অভাব, উপযুক্ত ঘরের সমস্যা বা অন্যান্য অসুবিধা থাকলে পরিষেবা প্রদান ব্যাহত হতে পারে। তাই কেন্দ্রের ভবন ও অন্যান্য সুবিধার উন্নয়ন শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নফরগঞ্জের ১৪৯ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের পরিষেবা আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত শেষ হোক নির্মাণকাজ

দীর্ঘদিনের সমস্যার পর কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশা, শুধু নির্মাণকাজ শুরু করেই উদ্যোগ থেমে থাকবে না; দ্রুত কাজ শেষ করে কেন্দ্রটিকে নিয়মিত পরিষেবার উপযোগী করে তোলা হবে।

৫২ জন শিশু এবং ১১ জন গর্ভবতী মহিলার সঙ্গে যুক্ত এই কেন্দ্রটির উন্নয়ন হলে প্রত্যন্ত এলাকার বহু পরিবারের উপকার হতে পারে। একই সঙ্গে শিশুদের পড়াশোনা ও পুষ্টির পরিবেশ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এখন নজর থাকবে, কত দ্রুত কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণ হয় এবং শিশু ও গর্ভবতী মহিলারা কতটা ভালো পরিষেবা পান।