নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে জমে উঠেছে লড়াই। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে কিমো পলের দুরন্ত বোলিং এবং অধিনায়ক শাই হোপের শতরানের সৌজন্যে ভারতকে ২৪ রানে হারিয়ে সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বুধবার, ১৪ অক্টোবর হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে। জবাবে ভারতের ইনিংস শেষ হয় ১৯.৩ ওভারে ২২৩ রানে। ফলে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক শাই হোপ ও জুয়েল অ্যান্ড্রুর ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলতে শুরু করে। মাত্র ২৬ বলে ৫২ রানের জুটি তৈরি হয়। অ্যান্ড্রু ২১ রান করে আউট হলেও হোপের ব্যাটে রানের গতি কমেনি।
এরপর শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েল দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। হেটমায়ার করেন ৩৩ রান এবং পাওয়েলের অবদান ২৪। শেষ দিকে শেরফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে হোপ ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান। দু’জনের অপরাজিত জুটিতে শেষ দিকে দ্রুত রান ওঠে।
হোপ ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। অন্যদিকে রাদারফোর্ড ২৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করে দলের স্কোরকে ২৪৭/৩-এ পৌঁছে দেন। বড় রান তোলার পাশাপাশি শেষ দিকে এই জুটি ভারতীয় বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও খুব একটা দেয়নি।
২৪৮ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ভারত শুরুটা করেছিল আগ্রাসী ভঙ্গিতে। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের শুরুতেই উত্তেজনা ছড়ায়। মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা ও ছয়টি চার। প্রথম কয়েক ওভারে দ্রুত রান তুলে ভারতীয় শিবিরে জয়ের আশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু স্যামসনকে ফিরিয়ে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেন কিমো পল। একই ওভারে ঈশান কিষাণকেও আউট করে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ওপর চাপ বাড়ান তিনি। দ্রুত দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ভারতের রানের গতি ও ব্যাটিংয়ের ছন্দে প্রভাব পড়ে।
এরপর অভিষেক শর্মা ২৯ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের ওভারে গুডাকেশ মোতির বোলিংও ভারতের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তিনি পরপর বলে অভিষেক শর্মা ও নামান ধীরকে ফিরিয়ে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যান।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে কিমো পলের বোলিংয়ে। স্যামসন ও ঈশান কিষাণকে ফিরিয়ে তিনি ভারতীয় ইনিংসের ওপর চাপ তৈরি করেন। এরপর মাঝের ওভারে এবং শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের রান তাড়া করার গতি থামিয়ে দেন।
তিলক বর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। তাঁদের ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগলেও বড় লক্ষ্য তাড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পল আবারও উইকেট নিয়ে ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনায় ধাক্কা দেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে জমা হয় পাঁচটি উইকেট—যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
ভারতের ব্যাটিং শেষ হয় ১৯.৩ ওভারে ২২৩ রানে। ফলে ২৪ রানে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতে দ্রুত রান তোলার পরও মাঝের ওভারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারানোই ভারতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়ে আনল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে প্রথম ম্যাচে ভারত আট উইকেটে জিতেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছয় উইকেটে জয় পায়। তৃতীয় ম্যাচে ভারত ১৪ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল। চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পর লড়াই এখন শেষ ম্যাচে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে। সেই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের বিজয়ী দল। ফলে দুই দলের কাছেই শেষ ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। সঞ্জু স্যামসন দ্রুত রান তুললেও পরবর্তী ব্যাটারদের বড় জুটি গড়তে না পারা দলকে চাপে ফেলেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে শাই হোপের ধারাবাহিকতা এবং কিমো পলের বোলিং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
শেষ ম্যাচে ভারতকে জিততে হলে বড় রান তাড়া করার সময় উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ের সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের দ্রুত থামানো জরুরি হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও চাইবে চতুর্থ ম্যাচের ছন্দ ধরে রেখে সিরিজ জিতে নিতে।