Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পুজোর আবহে তিলোত্তমার রাজপথে মমতা-পন্থীদের মিছিল, প্রতিবাদের রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক বার্তা?   •   আসানসোল জেলা কার্যালয়ের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অগ্নিমিত্রা পাল, নতুন পথচলার শুভ সূচনা   •   কাঁকড়ডাঙা সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের পুজোয় অগ্নিমিত্রা পাল, শারদোৎসবে সম্প্রীতি ও জনসংযোগের বার্তা   •   পিনাট বাটার টোস্ট খাওয়ার একাধিক উপকারিতা! রক্তে শর্করার ভারসাম্য থেকে পেট ভরা রাখা—জেনে নিন পুষ্টিগুণ   •   সেপ্টেম্বর মাসে দুরন্ত পারফরম্যান্স, পঞ্চমবার ‘আইসিসি মেনস প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ খেতাব জিতলেন শুভমন গিল!   •   অনুরাগীদের মাঝে দেবী মুখার্জি, প্রিয় অভিনেত্রীকে ঘিরে উচ্ছ্বাস বিনোদনপ্রেমীদের

পুজোর আবহে তিলোত্তমার রাজপথে মমতা-পন্থীদের মিছিল, প্রতিবাদের রাজনীতি নাকি রাজনৈতিক বার্তা?

13 Oct 2026
11:13 AM


সম্পাদকের কলমে: বাংলায় দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। শহর থেকে শহরতলি—সর্বত্র এখন উৎসবের প্রস্তুতি, মণ্ডপসজ্জা, আলোর রোশনাই এবং পুজো উদ্বোধনের ব্যস্ততা। এই উৎসবের আবহেই কলকাতার রাজপথে মিছিলকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও তার উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা। একদিকে যখন শাসক শিবিরের নেতা-মন্ত্রীরা পুজো উদ্বোধন ও জনসংযোগে ব্যস্ত, অন্যদিকে তিলোত্তমার বুকে মিছিলের পথে দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—উৎসবের মরশুমে এই মিছিলের রাজনৈতিক তাৎপর্য ঠিক কী?

উৎসবের শহরে রাজনীতির পদচারণা

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সামাজিক মিলন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আবেগেরও এক বড় উপলক্ষ। এই সময়ে কলকাতার রাস্তায় মানুষের ভিড় বাড়ে, শহরের ব্যস্ততা অন্য মাত্রা পায়। পুজো কমিটি, প্রশাসন, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ—সকলের কাছেই এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এমন এক সময়ে রাজনৈতিক মিছিল স্বাভাবিকভাবেই জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশেষ করে মিছিলের কারণে যদি যান চলাচল ব্যাহত হয়, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয় কিংবা প্রশাসনিক বাধার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে। তবে কোনও মিছিলকে মূল্যায়ন করতে হলে তার অনুমতি, নির্দিষ্ট রুট, প্রশাসনের নির্দেশ এবং বাস্তবে কী ঘটেছে—সেই তথ্যগুলিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

একদিকে পুজো উদ্বোধন, অন্যদিকে রাজনৈতিক মিছিল

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে উৎসবের মরশুমেও জনসংযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো উদ্বোধনে ব্যস্ত, পঞ্চায়েত সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা দিলীপ ঘোষ বিভিন্ন পুজো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও পুজো উদ্বোধন ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন—এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মিছিল আলাদা করে নজর কাড়ছে।

রাজনীতির ভাষায় এই দুই ধরনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য আলাদা হতে পারে। পুজো উদ্বোধন ও জনসংযোগের মাধ্যমে নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পান। অন্যদিকে, মিছিলের মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য, দাবি কিংবা প্রতিবাদ জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। তাই একটিকে অন্যটির সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখার বদলে, প্রতিটি কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও প্রভাব আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

দিল্লির মিছিল থেকে কলকাতার রাজপথ—কী বার্তা দিতে চাইছে বিরোধী শিবির?

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দিল্লিতে মিছিলের প্রসঙ্গ এবং কলকাতায় তাঁর সমর্থকদের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কী? জনসমর্থন প্রদর্শন, কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে প্রতিবাদ, নাকি রাজনৈতিক সংগঠনকে সক্রিয় রাখার কৌশল?

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মিছিলের ঘোষিত দাবি, নেতৃত্বের বক্তব্য এবং কর্মসূচির বাস্তব প্রভাবের উপর। শুধু মিছিল হয়েছে বলেই তাকে নিছক নাটক বলা যেমন যথেষ্ট তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন নয়, তেমনই কোনও কর্মসূচিকে জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরে নেওয়ার আগেও তার বিষয়বস্তু ও ফলাফল খতিয়ে দেখা দরকার।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, যান চলাচল এবং উৎসবের নিরাপত্তা বজায় রাখাও প্রশাসনের দায়িত্ব। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

বাধা-বিঘ্নের অভিযোগ উঠলে প্রশ্ন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও

মিছিলের পথে প্রশাসনিক বাধা বা অসুবিধার অভিযোগ থাকলে তার প্রকৃত কারণ জানা জরুরি। কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, নির্ধারিত রুট অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, পুলিশের পক্ষ থেকে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এসব তথ্য ছাড়া ঘটনার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

প্রশাসনের ভূমিকা হওয়া উচিত আইন মেনে সব পক্ষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বলে তাকে অযথা বাধা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনই অনুমতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নিয়ম উপেক্ষা করাও কাম্য নয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সামনে আসা দরকার।

পুজোর আবহে রাজনৈতিক মিছিল—নাটক, নাকি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ?

এই প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া যায় না। কোনও কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারে, সাধারণ মানুষও তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু কোনও মিছিলকে নিছক নাটক বলে চিহ্নিত করার আগে দেখতে হবে, সেখানে কী দাবি তোলা হয়েছে, সেই দাবির পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং কর্মসূচি জনজীবনে কী প্রভাব ফেলেছে।

রাজনীতিতে প্রতীকী কর্মসূচির গুরুত্ব রয়েছে। আবার শুধুমাত্র দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করলেই কোনও রাজনৈতিক উদ্যোগের সাফল্য প্রমাণিত হয় না। জনগণের কাছে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা, দাবির যৌক্তিকতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে সেই কর্মসূচির ভূমিকা।

মিছিলের সমর্থকেরা একে প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দেখতে পারেন। সমালোচকেরা এর সময়, পদ্ধতি কিংবা উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। গণতান্ত্রিক পরিসরে দুই ধরনের মতামতেরই জায়গা রয়েছে—যতক্ষণ তা তথ্য, যুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের ভিত্তিতে থাকে।

শেষ কথা

দুর্গাপুজো বাঙালির মিলন ও সম্প্রীতির উৎসব। এই সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের জনসংযোগ, পুজো উদ্বোধন কিংবা বিরোধী দলের মিছিল—সবই গণতান্ত্রিক জীবনের অংশ হতে পারে। তবে উৎসবের আনন্দ যেন রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে ম্লান না হয়, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিলোত্তমার রাজপথে মমতা-পন্থী সমর্থকদের মিছিলকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর স্লোগান বা রাজনৈতিক অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজা দরকার। মিছিলটি কি কোনও নির্দিষ্ট জনস্বার্থের দাবি সামনে এনেছে, নাকি মূলত রাজনৈতিক উপস্থিতি জানানোর কর্মসূচি—তা বিচার করবেন নাগরিকেরাই।