Home Entertainment ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
ভোটারদের ন্যায়বিচারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের নিয়ে পদযাত্রা   •   পাটের আঁশ থেকে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পাটজাত সামগ্রী, হাতের কাজেই বাড়তি রোজগার গ্রামের মহিলাদের   •   অবৈজ্ঞানিকভাবে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার কৃষিতে, বাড়ছে জলস্তর কমে যাওয়ার আশঙ্কা! সুন্দরবন-সহ গ্রামীণ এলাকায় সতর্কতার প্রয়োজন   •   সুন্দরবনের কৃষক দেখাচ্ছেন নতুন পথ! জলমগ্ন জমির পাশে আলেই সবজি চাষ করে বিকল্প আয়ের সন্ধান   •   দুর্গাপুজো উপলক্ষে ঝড়খালির পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান, সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত প্রদীপ সরদারের   •   নর-নারায়ণ সেবায় মানবতার জয়গান ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনে, উপস্থিত থেকে বক্তব্য বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার

কুঁদঘাটে বৃহৎ জলাশয়ের নামকরণ ‘শক্তি জলাশয়’, পুনরুদ্ধার ও সবুজায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

12 Oct 2026
10:36 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : কলকাতার কুঁদঘাট এলাকায় বৃহৎ জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন সংযোজন ‘শক্তি জলাশয়’। আজ কলকাতা পৌরসংস্থার উদ্যোগে ১ ও ২ নম্বর ইটখোলা, ১১৪ নম্বর ওয়ার্ড, বরো ১১-তে জলাশয় পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অন্তর্গত একটি জলাশয়ের নামকরণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নামকরণ ও উদ্বোধনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব ও আধিকারিকরা।

শহরের পরিবেশ রক্ষা, প্রাকৃতিক জলসম্পদ সংরক্ষণ এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে জলাশয় পুনরুদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে জলাশয়গুলি কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং বৃষ্টির জল ধরে রাখা, স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই প্রেক্ষাপটে কুঁদঘাটের এই প্রকল্পকে শহরের পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘শক্তি জলাশয়’—নতুন পরিচয়ে জলাশয়

কুঁদঘাটের ১ ও ২ নম্বর ইটখোলা এলাকায় অবস্থিত এই জলাশয়টির নাম ‘শক্তি জলাশয়’ রাখার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় পেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামকরণকে কেন্দ্র করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তগুলি সামনে এসেছে। জলাশয়টির পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তার চারপাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

জলাশয় পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে জলাধারের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতা বজায় রাখা, জলদূষণ নিয়ন্ত্রণ, চারপাশের পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে জলাশয় সংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত সবুজায়ন পরিবেশকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করতে পারে। প্রকল্পের কাজ কতটা বিস্তৃত এবং কী কী পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশিত হলে উদ্যোগটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার লক্ষ্য

কলকাতা পৌরসংস্থার উদ্যোগে নেওয়া এই প্রকল্পে জলাশয় পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সবুজ বেষ্টনী তৈরির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতি এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি জলাশয় সংরক্ষণ ও সবুজ পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই প্রকল্পের নির্দিষ্ট ব্যয়, কাজের সময়সীমা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সম্পর্কে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই বিস্তারিত মূল্যায়ন করা সম্ভব।

জলাশয় সংরক্ষণে নাগরিকদের ভূমিকা

জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেটিকে দীর্ঘদিন কার্যকর রাখা একটি বড় দায়িত্ব। জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা, নিকাশি বর্জ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজ বেষ্টনীর পরিচর্যা—এই বিষয়গুলির উপর প্রকল্পের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পৌরকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে জলাশয়টি পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি এলাকার নাগরিক পরিসর উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময় জলধারণ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্ত

‘শক্তি জলাশয়’-এর নামকরণ ও উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দিনের বিশেষ মুহূর্তগুলি তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতিতে কুঁদঘাটের এই উদ্যোগ শহরের জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সবুজায়নের বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, কলকাতা পৌরসংস্থার উদ্যোগে কুঁদঘাটের ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বরো ১১-তে বৃহৎ জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সবুজ বেষ্টনী তৈরির প্রকল্পের অন্তর্গত জলাশয়টির নামকরণ ‘শক্তি জলাশয়’ শহরের পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এখন এই জলাশয়ের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজ বেষ্টনীর বিকাশের মাধ্যমে প্রকল্পটি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুফল দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।