নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : বাংলার ফুলচাষের জগতে চন্দ্রমল্লিকা একটি জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফুল। শীতের মরশুমে বিভিন্ন রঙের চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাহিদা বাড়ে। বাড়ির বাগান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক জমি—দুই ক্ষেত্রেই এই ফুলের চাষ করা সম্ভব। দুর্গাপুজো-পরবর্তী সময়, বিয়ের অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ফুলের সাজসজ্জায় চন্দ্রমল্লিকার ব্যবহার রয়েছে। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, উন্নত মানের চারা নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগপোকা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু ফুলের উৎপাদন বেশি হলেই লাভ নিশ্চিত হয় না। স্থানীয় বাজারে চাহিদা, ফুলের রং ও আকার, উৎপাদন খরচ এবং বিক্রির সময়ের উপরেও চাষের লাভ নির্ভর করে।
চন্দ্রমল্লিকা মূলত শীতকালীন ফুল। বাংলার আবহাওয়ায় সাধারণত বর্ষার শেষভাগ থেকে শরতের শুরুতে চারা তৈরি ও রোপণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জাত এবং চাষের পদ্ধতি অনুযায়ী সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
জুলাই–আগস্ট: সুস্থ মাতৃগাছ নির্বাচন, ডাল সংগ্রহ ও চারা তৈরির প্রস্তুতি।
আগস্ট–সেপ্টেম্বর: অনেক জাতের চারা তৈরি এবং জমি বা টবে রোপণের উপযুক্ত সময়।
সেপ্টেম্বর–অক্টোবর: চারা রোপণ, গাছের বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনমতো ডগা ছাঁটাই।
নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি: জাত ও রোপণের সময় অনুসারে ফুল ফোটার সম্ভাব্য মরশুম।
বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, চন্দ্রমল্লিকা দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের প্রতি সংবেদনশীল। তাই সব জাত একই সময়ে ফুল দেয় না। নির্দিষ্ট সময়ে ফুল বাজারে তুলতে চাইলে স্থানীয় উদ্যানপালন দপ্তর বা কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে জাত নির্বাচন করা উচিত।
চন্দ্রমল্লিকা চাষের জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোকযুক্ত, উঁচু এবং জলনিকাশের সুবিধাযুক্ত জমি নির্বাচন করা ভালো। দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি, যাতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ রয়েছে, এই ফুলের চাষের জন্য উপযোগী।
মাটি দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকলে শিকড় পচা এবং ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিচু জমিতে সরাসরি চাষ করলে জলনিকাশের ব্যবস্থা করা জরুরি।
জমি তৈরির পদ্ধতি:
১. জমির আগাছা ও আগের ফসলের রোগাক্রান্ত অংশ পরিষ্কার করুন।
২. মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পচা গোবর বা কম্পোস্ট মেশান।
৩. জল জমার আশঙ্কা থাকলে উঁচু বেড তৈরি করুন।
৪. মাটির অম্লত্ব ও পুষ্টির অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করুন।