নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: মহালয়ার পবিত্র প্রভাতে দেবীপক্ষের শুভ সূচনাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় আয়োজিত হল দেবী দুর্গার আহ্বান ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মহালয়ার এই বিশেষ মুহূর্তকে ঘিরে ধর্মীয় আবেগ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রস্তুতির আবহ তৈরি হয়েছে।
মহালয়া বাঙালির জীবনে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আগমনের প্রতীক্ষা। ভোরের আকাশে মহালয়ার আবহ, চণ্ডীপাঠের স্তোত্র এবং দেবী বন্দনার মধ্য দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে শারদীয় উৎসবের আনন্দ। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কলকাতায় আয়োজিত দেবী দুর্গার আহ্বান অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে বিশেষ আয়োজন। বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহালয়ার দিন থেকেই দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়। পুজোর মণ্ডপ, প্রতিমা নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে শহরজুড়ে বাড়তে থাকে উৎসাহ।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি কর্মসূচিটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে। দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে দেবী দুর্গার আহ্বানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
মহালয়া শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ভোরবেলা মহিষাসুরমর্দিনী শোনা, দেবী বন্দনায় অংশ নেওয়া এবং পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন বহু মানুষ।
পুরাণ ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। তাই মহালয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আশা, নতুন সূচনা এবং মঙ্গলকামনার বার্তা। এই দিন থেকেই বাঙালির মনে দুর্গাপুজোর আনন্দ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কলকাতা প্রতি বছরই নতুন সাজে সেজে ওঠে। বড় বড় পুজোমণ্ডপ, শিল্পসম্মত প্রতিমা, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শহরের উৎসবের পরিবেশকে বিশেষ মাত্রা দেয়। মহালয়ার পর থেকেই পুজোর প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
দেবী দুর্গার আহ্বানে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানও শারদীয় আবহের সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তবে অনুষ্ঠানের অন্যান্য অতিথি, নির্দিষ্ট স্থান এবং কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে এই আয়োজন সম্পর্কে আরও বিস্তৃতভাবে জানা যাবে।
দুর্গাপুজো বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি বড় অংশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই উৎসব মানুষে মানুষে মিলন, সম্প্রীতি এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গাপুজো হয়ে ওঠে বাংলার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক পরিচিত উদাহরণ।
মহালয়ার পবিত্র সূচনায় কলকাতার এই বিশেষ অনুষ্ঠান দেবী দুর্গার আগমনকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি শারদীয় উৎসবের আবহকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন অপেক্ষা দুর্গাপুজোর মূল উৎসবের, যখন কলকাতা-সহ গোটা বাংলা মেতে উঠবে আলো, আনন্দ এবং সাংস্কৃতিক উদ্যাপনে।