নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন খাল, বিল, ঝিল ও পুকুর লিজ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন বিজেপি কর্মী রাজু মণ্ডল। তাঁর দাবি, এই লিজ প্রক্রিয়াকে ঘিরে কয়েক লক্ষ টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হলেও নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
রাজু মণ্ডলের বক্তব্য, গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বিভিন্ন খাল-বিল, ঝিল ও পুকুর লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছে। লিজ সংক্রান্ত নথি, অর্থের লেনদেন এবং পঞ্চায়েতের রাজস্ব আদায়ের বিষয়গুলি যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জবাব দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল বলে দাবি বিজেপি কর্মীর। কিন্তু সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজু মণ্ডল বলেন, শুধু নোটিশ জারি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। যদি কোনও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে তার তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা জরুরি। কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, পঞ্চায়েতের সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা পড়েছে এবং লিজ প্রক্রিয়ায় নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসেব প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপি কর্মীর আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েতের অধীন জলাশয়গুলির লিজ সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্বচ্ছতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি বা পঞ্চায়েতের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে সরকারি রাজস্বের কোনও ক্ষতি হয়ে থাকলে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনায় গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজু মণ্ডল। তাঁর দাবি, নোটিশে উল্লেখ করা সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রধানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে গঙ্গাসাগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।
রাজু মণ্ডলের বক্তব্য, গঙ্গাসাগরের সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতের কাজকর্ম এবং সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্বচ্ছতা চান। খাল, বিল, ঝিল ও পুকুরের মতো স্থানীয় জলসম্পদ শুধুমাত্র আর্থিক সম্পদ নয়, এগুলির সঙ্গে এলাকার পরিবেশ, কৃষিকাজ এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও যুক্ত। তাই এই ধরনের সম্পত্তির লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে গঙ্গাসাগরবাসী পঞ্চায়েতের কাছে সমস্ত হিসেব চাইবে। লিজ সংক্রান্ত আয়, সরকারি কোষাগারে জমা পড়া অর্থ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া—সবকিছুর হিসেব প্রকাশ করার দাবি জানানো হবে।
তবে বিজেপি কর্মী রাজু মণ্ডলের তোলা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা-ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সরকারি নথি, লিজ সংক্রান্ত হিসেব এবং প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলই চূড়ান্ত ভিত্তি হতে পারে।
গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাল-বিল, ঝিল ও পুকুর লিজ নিয়ে ওঠা এই অভিযোগের জেরে এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগের তদন্ত হলে প্রকৃতপক্ষে কোনও আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার সঙ্গে কারা জড়িত, সেই তথ্য সামনে আসতে পারে। একইসঙ্গে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি উঠছে।
রাজু মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি এখানেই থেমে থাকবে না। পঞ্চায়েতের সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে আরও জোরালোভাবে বিষয়টি সামনে আনা হবে বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গঙ্গাসাগরবাসী পঞ্চায়েতের কাছ থেকে প্রতিটি টাকার হিসেব জানতে চান এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।