নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রে উত্তেজনা তৈরি হয়। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলতে শুরু করেন কয়েকজন ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, ভোট দিতে যাওয়ার পথে পুলিশি তৎপরতার কারণে কোথাও কোথাও ভোটারদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির সবকটির স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি।
ভোটের দিন রেজিনগরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, একাধিক বুথে পুলিশ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
হুমায়ুন কবীর এদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের গ্রামের একটি বুথে ভোট দেন। এরপর তিনি দলের কার্যালয়ে যান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বচসা শুরু হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটি ঘিরে রেজিনগর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।
পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলা হয়েছে। বেলডাঙার এসডিপিও আনন্দজিৎ হোরে জানান, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
রেজিনগরে ভোটারদের একাংশের অভিযোগ, বুথে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কারণে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা পুলিশের নজরদারির মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও কোথাও ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তরফে এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে বুথভিত্তিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উপনির্বাচনের আগে রেজিনগরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়। ভোটের আগে একটি পুরনো নির্বাচনী সংঘর্ষের মামলায় এক নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনাও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়িয়েছিল।
এবারের উপনির্বাচনে রেজিনগরে একাধিক রাজনৈতিক শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। AJUP-এর হয়ে হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপি, তৃণমূলের পৃথক প্রার্থী, কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম)-এর প্রার্থীরাও লড়াইয়ে রয়েছেন। ফলে বহুমুখী এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভোটগ্রহণের দিন পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার পাল্টা পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে রেজিনগরের নির্বাচন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। একদিকে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠছে, অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনও বুথে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না, কিংবা অভিযোগগুলি কতটা সত্য—তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট বুথের তথ্য, ভোটারদের বক্তব্য এবং নির্বাচন কমিশনের রিপোর্টই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং গণনা ৯ অক্টোবর হওয়ার কথা।
নোট: এই প্রতিবেদনে পুলিশের বিরুদ্ধে ভোটারদের অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে; প্রশাসনের পাল্টা বক্তব্যও রাখা হয়েছে, কারণ অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।