Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
পলি গ্রিনহাউসে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে সরকারি সহায়তা, কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা   •   ভোট দেওয়ার পরেই আটক হুমায়ুন কবীর, রেজিনগরে উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা   •   রাজ্যসভা নির্বাচন: প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত   •   বর্ষা বিদায় শুরু, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা সরে যাওয়ার সম্ভাবনা   •   ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ভারতের ওপেনিং জুটি নিয়ে মুখ খুললেন মর্নি মরকেল   •   ডিম না খেলেও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব, খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে একাধিক বিকল্প উৎস

ভোট দেওয়ার পরেই আটক হুমায়ুন কবীর, রেজিনগরে উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

06 Oct 2026
04:11 AM

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করেছে রেজিনগর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর সকালে ভোট দেওয়ার পরই তাঁকে তাঁর দলের কার্যালয় থেকে পুলিশ আটক করে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। 

ভোট দেওয়ার পর হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের সামনে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে পুলিশ ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। একইসঙ্গে গত কয়েক মাসে তাঁর দলের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত দু’মাসে ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে; পুলিশের পক্ষ থেকে আটক করার নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। 

হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, ভোটের আগে থেকেই তাঁর শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ চলছে। ভোটের দিনও একাধিক বুথে পুলিশ ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যের পরই তাঁকে পুলিশ আটক করায় রেজিনগরের ভোটপর্বে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

রেজিনগর উপনির্বাচনের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান সরাসরি জড়িত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেন। সেই কারণেই রেজিনগরে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার তাঁর দল AJUP-এর হয়ে রেজিনগর থেকে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। 

উপনির্বাচনের আগে থেকেই রেজিনগরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ছিল তীব্র। এর আগে দলের কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর থানার সামনে অবস্থানও করেছিলেন এবং পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদক্ষেপের অভিযোগও করা হয়েছিল। 

ভোটের দিন সকালে তাঁর আটক হওয়ার ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে, ভোটগ্রহণ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য রেজিনগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর। 

এখন হুমায়ুন কবীরকে ঠিক কোন অভিযোগ বা পরিস্থিতির ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে, পুলিশ তাঁকে কতক্ষণ হেফাজতে রাখবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি, ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে হুমায়ুন কবীর যে অভিযোগ তুলেছেন, নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রেজিনগরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রার্থীপক্ষের অভিযোগ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের দিন সকালেই ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।