নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার ভারতীয় সংগ্রহালয়ের আশুতোষ জন্মশতবার্ষিকী সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হল ‘স্বস্তিকা’ পুস্তিকার শুভ উন্মোচন অনুষ্ঠান। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকাশিত ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই বিশেষ পূজাসংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশকে ঘিরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় সংগ্রহালয়ের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বাঙালির উৎসব-পরম্পরাকে কেন্দ্র করে নানা বিষয় উঠে আসে।
পূজাসংখ্যা ‘স্বস্তিকা’কে ঘিরে আয়োজকদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বাঙালির দীর্ঘদিনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাকে সামনে রেখে এই ধরনের প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎসবের আবহে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমাজজীবনের বিভিন্ন দিক পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই এই ধরনের বিশেষ সংখ্যার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুস্তিকার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। উপস্থিত অতিথিরা প্রকাশনার গুরুত্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
ভারতীয় সংগ্রহালয় কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠান দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, শিল্পকলা, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের সঙ্গে যুক্ত। সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের আশুতোষ জন্মশতবার্ষিকী সভাগৃহে ‘স্বস্তিকা’র পূজাসংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন হওয়ায় অনুষ্ঠানের তাৎপর্য আরও বেড়েছে।
বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসব দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাগুলির ক্ষেত্রে সাহিত্য ও সংস্কৃতির পাশাপাশি বাঙালির সামাজিক জীবন, ঐতিহ্য এবং উৎসবের বহুমাত্রিক দিকও উঠে আসে। ‘স্বস্তিকা’ পুস্তিকার ১৪৩৩-এর সংখ্যাতেও সেই সাংস্কৃতিক আবহকে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্যে বাংলা ও ভারতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। আধুনিক সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের মধ্যেও বই, পত্রিকা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশনার গুরুত্ব রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।
সব মিলিয়ে, কলকাতার ভারতীয় সংগ্রহালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘স্বস্তিকা’ পুস্তিকার পূজাসংখ্যার প্রকাশ ঘিরে সাংস্কৃতিক মহলে উৎসাহ দেখা যায়। দুর্গাপুজোর আবহে প্রকাশিত এই বিশেষ সংখ্যা পাঠকদের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক নতুনভাবে তুলে ধরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।