নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা-৩ নম্বর ব্লকের মৎস্য দফতরে মাছ বণ্টনকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দফতরে আসা মাছের একটি বড় অংশ বণ্টনের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির স্থানীয় বিজেপি নেতা যমুনা সাউয়ের দিকে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।
অভিযোগ, মৎস্য দফতরে বণ্টনের জন্য আসা মাছের মধ্যে প্রায় ৩ কুইন্টাল মাছ সরিয়ে নিজের এলাকার একটি পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে নির্ধারিত উপভোক্তাদের মধ্যে মাছ বণ্টনের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে মাছের পরিমাণ ও বণ্টনের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিরই একাংশের মধ্যে প্রতিবাদ দেখা দেয় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, পরিস্থিতি সামাল দিতে দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং অভিযুক্ত নেতার পক্ষ থেকে নথিপত্রে কারচুপি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি জাল মাস্টার রোল তৈরিরও অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঠিক কত পরিমাণ মাছ বণ্টনে অনিয়ম হয়েছে, কিংবা নথিপত্রে কোনও কারচুপি হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা তৈরি হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মাছের হিসাবে মাত্র ৩ কেজি ঘাটতি দেখানো হয়। সেই ঘাটতি পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট দরপত্রপ্রাপক সংস্থার উপর অতিরিক্ত ৩ কেজি মাছ সরবরাহের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ওই সংস্থা অতিরিক্ত মাছ দিতে রাজি হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাছ বণ্টনে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৎস্য সম্প্রসারণ আধিকারিক (FEO)। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই মাছ বণ্টন করা হয়েছে। কিছু উপভোক্তা দ্বিতীয়বার মাছ চাইতে এসেছিলেন, কিন্তু তাঁদের পুনরায় মাছ দেওয়া হয়নি—এ কারণেই হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আধিকারিকের বক্তব্য।
স্থানীয় বিজেপি নেতা যমুনা সাউও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, মাছ সরিয়ে ব্যক্তিগত বা নিজের এলাকার কোনও পুকুরে দেওয়ার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, মাছের প্রকৃত পরিমাণ এবং বণ্টনের হিসাবের মধ্যে যে অমিলের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ মাছের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি উঠেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরকারি দফতরে বরাদ্দ সামগ্রী বণ্টনের ক্ষেত্রে হিসাব ও নথিপত্র কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে মাস্টার রোলে কোনও ধরনের কারচুপি হয়েছে কি না, মাছ সরবরাহের নথির সঙ্গে বাস্তব বণ্টনের হিসাব মিলছে কি না এবং উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথ ছিল কি না—সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ ও পাল্টা দাবির জেরে গড়বেতা-৩ নম্বর ব্লকের মৎস্য দফতরে মাছ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে। এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের তরফে কোনও তদন্ত বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।