নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সামসাবাদে জনসভা করল আইএসএফ। দলের প্রার্থী সবে মিরাজ আলি খানের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
নওশাদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস যে জায়গায় অন্যায় করেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই জায়গা থেকেই অন্যায় শুরু করেছে। তাঁর দাবি, দুই দলই গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করছে। তৃণমূলের আমলে যেমন রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, এখনও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে তুলে ধরে নওশাদ একাধিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিজেপিকে প্রশ্ন করেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কোথায়—তার জবাব মানুষ চাইছেন। অন্নপূর্ণা যোজনা, ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান এবং পেট্রোপণ্যের দাম নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আইএসএফ বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি কোথায়—তার জবাব বিজেপিকে দিতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে আইএসএফ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও তীব্র আক্রমণ করেন নওশাদ সিদ্দিকী। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুল বন্ধ, শিক্ষা ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ, হকার উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসনের মতো বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন আইএসএফ চেয়ারম্যান।
নওশাদের আরও অভিযোগ, সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলি বন্ধ করে সেগুলিকে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আদিবাসী, দলিত ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এর প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগও তোলেন নওশাদ।
ধর্মের নামে রাজনীতির বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখেন আইএসএফ চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে মানুষের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করা যাবে না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ আলি খান ছাড়াও দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও সামসাবাদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।