নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আদিবাসী ও বনবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাসন্তী থানায় ঘেরাও কর্মসূচি নিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। ২০২৬ সালের বিজেপির বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত প্রার্থী বিকাশ সরদার এবং মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী ও বনবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিবাদে বিকাশ সরদার ও তাঁর অনুগামীরা জড়িয়ে পড়ছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু সংহতির নাম করে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং জোর করে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার বাসন্তী থানায় হিন্দু সংহতির অনুগামীদের সঙ্গে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠক চলাকালীন দু'পক্ষের মধ্যে বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এরপর তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় প্রায় ৮-৯ জন আহত হন। তাঁদের প্রথমে বাসন্তী ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের ক্যানিং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
ঘটনার পর বিকাশ সরদার ও মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাঁদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম করা হচ্ছে, তাঁদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। সেই কারণেই থানায় ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ব্লক নেতৃত্ব মানস মণ্ডলের অভিযোগ, আদিবাসী ও বনবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জমি সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, বিকাশ সরদার ও তাঁর অনুগামীরা বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় থানার পাশাপাশি বিজেপির জেলা নেতৃত্বকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
মানস মণ্ডলের আরও অভিযোগ, হিন্দু সংহতির নাম ব্যবহার করে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি দলের নেতৃত্ব এবং বিধায়ককে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জমি সংক্রান্ত অভিযোগগুলির তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে, হিন্দু সংহতির তরফে আন্দোলনকারীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে, বিজেপির এক রাজ্য কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয়ভাবে কেউ এই ঘটনায় জড়িত থাকলে বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে জেলার মাধ্যমে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিকাশ সরদার ও মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। ফলে জমি সংক্রান্ত বিবাদ, রবিবারের সংঘর্ষ এবং গ্রেফতারের দাবিকে ঘিরে বাসন্তীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।