নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বিপুল সংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন কেবলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড়সড় পরিষেবা বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট কেবল মুম্বাইয়ের ভরসোভা উপকূলের প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলাকায় এসে সংযুক্ত হওয়ায় এই নির্ভরশীলতা পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা তৈরি করছে। কোনও কারণে ওই অঞ্চলে একাধিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক ডেটা যোগাযোগে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
সমস্যার আরও একটি দিক হল, কেবল ছিঁড়ে গেলে দ্রুত মেরামতের জন্য ভারতের নিজস্ব পর্যাপ্ত সাবমেরিন কেবল-রিপেয়ার জাহাজ না থাকার অভিযোগ। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে বিদেশি পরিষেবা ও মেরামতকারী জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা পরিষেবা স্বাভাবিক হতে সময় বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবাগুলিতে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড পরিষেবা, ডেটা সেন্টার, টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী কেবল বিপর্যয় অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ মহলে সমুদ্রতলের কেবল অবকাঠামোকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ, একাধিক ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি এবং দ্রুত মেরামতের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ডিজিটাল অর্থনীতির পরিধি যত বাড়ছে, ততই নির্ভরযোগ্য ও বিকল্প আন্তর্জাতিক সংযোগ নিশ্চিত করাকে জাতীয় পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।